বুধবার, ৬ মে ২০২৬

এক সমাজে দুই মসজিদ, সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » এক সমাজে দুই মসজিদ, সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
বুধবার, ৬ মে ২০২৬



এক সমাজে দুই মসজিদ, সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে একটি মসজিদের জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দের ৮৮ লাখ টাকা দুই পক্ষ ভাগ করে নিয়ে একই সমাজের মধ্যে দুই জায়গায় আলাদা দুটি মসজিদ নির্মাণ করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সরিষাবাড়ী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের মাইজবাড়ী পূর্বপাড়া এলাকায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ জামালপুর সদরের দিগপাইত হতে সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-ভুঁয়াপুর মহাসড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে। এর আওতায় মাইজবাড়ী পূর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদটির জমি ও স্থাপনা পড়ে যায়। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মসজিদটির জমি ও স্থাপনা বাবদ মোট ৮৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ নামে হস্তান্তর করে। আর এই টাকা পাওয়ার পরই শুরু হয় মূল বিপত্তি।

​জানা গেছে, সাবেক মসজিদের জমিটি সাধারণ সম্পাদক হুরমুজ আলীর পূর্বপুরুষদের দান করা ছিল। শর্ত মোতাবেক মসজিদ স্থানান্তরিত হলে জমির মালিকানা পূর্বদাতারা পাবেন—এই দাবিতে সাধারণ সম্পাদক জমি বাবদ প্রাপ্ত ৩২ লাখ টাকা একাই বুঝে নেন। পরবর্তীতে মসজিদের স্থাপনা বাবদ প্রাপ্ত ৫৬ লাখ টাকা থেকেও তিনি আরও ৯ লাখ টাকা দাবি করেন।

​এ নিয়ে একাধিক সালিশ-বৈঠকের পর এলাকাবাসী একটি বণ্টননামা করে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে মোট ৪১ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেন। বাকি ৪৭ লাখ টাকা সভাপতি মাওলানা মকবুল হোসেনের কাছে রয়ে যায়।

​এদিকে টাকা পাওয়ার পর সাধারণ সম্পাদক হুরমুজ আলী সেই অর্থ দিয়ে নিজের ভাইয়ের কাছ থেকে মসজিদের জন্য জমি ক্রয় করেন এবং নতুন মসজিদের কাজ শুরু করেন। কিন্তু সমাজের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ নদীর পাড়ে মসজিদ নির্মাণ করায় মেনে নিতে পারেনি। ফলে সভাপতির নেতৃত্বে সমাজের বাকি অংশের মানুষেরা আরেকটি নতুন মসজিদ অন্যত্র নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

সাধারণ সম্পাদক হুরমুজ আলীর অভিযোগ, “মসজিদের সভাপতি মাওলানা মকবুল হোসেন স্থাপনার টাকা পুরোটাই নিয়ে গেছেন। এখন আমাদের এখানে মসজিদ নির্মাণ করতে অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। তাঁর কাছে টাকা চাইলে তিনি দিচ্ছেন না। শুনেছি টাকা তিনি নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রেখে দিয়েছেন। তাই মসজিদের অর্থ আদায়ের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।”

​সভাপতি মাওলানা মকবুল হোসেন আরো পাল্টা দাবি করে বলেন, “সাধারণ সম্পাদকের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। তিনি জমির ৩২ লাখ টাকাসহ স্থাপনার টাকা থেকে আরও ৯ লাখ, অর্থাৎ মোট ৪১ লাখ টাকা একাই নিয়েছেন। বাকি ৪৭ লাখ টাকা দিয়ে আমরা সমাজবাসীর সুবিধার্থে একটি সুন্দর জায়গায় নতুন মসজিদ নির্মাণ করছি।

হাজী রঞ্জু মিয়া নামে এক ব্যক্তি ১০ শতাংশ জমি দান করেছেন এবং সেই জমিতেই কাজ চলছে। ক্ষতিপূরণের টাকা ইসলামী ব্যাংকে মসজিদের নামেই রাখা আছে। আমি দীর্ঘ ৪০ বছর এখানে বিনা বেতনে ইমামতিও করে আসছি। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, আমি এর তীব্র নিন্দা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

​একই সমাজে টাকা ভাগ করে দুই মেরুতে দুটি মসজিদ নির্মাণের ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলেন,
​”সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টাকা বণ্টন করে দুই জায়গায় দুটি মসজিদ করছেন, যা অত্যন্ত অপ্রশংসনীয় এবং নিন্দনীয় কাজ।”
​”ইসলাম কখনোই এই বিভক্তিকে স্বীকৃতি দেয় না। উচিত ছিল সবাই মিলেমিশে এক সমাজে একটি মসজিদই নির্মাণ করা।”
​”নেতাদের এই জেদ ও অহংকারের কারণে সমাজ আজ খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছে।”

​বর্তমানে এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মুসল্লিরা এই সংকটের দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান চান।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৪:০৩   ৩১ বার পঠিত