রবিবার, ১০ মে ২০২৬

​মা-ছেলের মানবেতর জীবন: সব কেড়ে নিল কালবৈশাখী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ​মা-ছেলের মানবেতর জীবন: সব কেড়ে নিল কালবৈশাখী
রবিবার, ১০ মে ২০২৬



​মা-ছেলের মানবেতর জীবন: সব কেড়ে নিল কালবৈশাখী

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নে এক অসহায় মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ এখন কেবলই খোলা আকাশের নিচে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। স্বামী থেকেও নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়ে ১২ বছরের সন্তানকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে গুলেজা বেগমের।

অপেক্ষার সাত বছর, মেলেনি স্বামীর খোঁজ তেঘুরিয়া ফকির পাড়া গ্রামের বাসিন্দা গুলেজা বেগমের স্বামী ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রায় সাত বছর আগে তিনি নিখোঁজ হন। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—আজও তার কোনো হদিস মেলেনি। সেই থেকে একমাত্র পুত্র সন্তান পরানকে (১২) নিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করছেন গুলেজা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে বা প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে তিন বেলা আহার জুটত তাদের।

কালবৈশাখীর ছোবলে শেষ সম্বলটুকুও চুরমার যেখানে দুই বেলা খাবার জোগাড় করাই এক দুঃসাধ্য লড়াই, সেখানে ঘর মেরামতের কথা ভাবাই ছিল বিলাসিতা। গত ১৫ দিন আগে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় যেন গোলেজার জীবনের শেষ আলোটুকুও নিভিয়ে দিয়েছে। ঝড়ে তার জরাজীর্ণ ঘরটি ভেঙে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সামান্য খাবার দাবার—সবই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের খুঁটিগুলো ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। টিনগুলো উড়ে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ঘর মেরামতের সামর্থ্য না থাকায় গত ১৫ দিন ধরে মা ও ছেলে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাচ্ছেন। রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন এই অসহায় মা।

“স্বামী হারিয়েছে অনেক আগে, কোনোমতে ছেলেটারে নিয়া এই ঘরে থাকতাম। ঝড় আমার সব কাইড়া নিছে। অহন রাইতে আসমানের নিচে শুইয়া থাকি, বৃষ্টি আইলে ভিজি। কেউ আমাগো দিকে তাকায় না বাবা।” — কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন গোলেজা বেগম।

ঝুঁকি নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন গোলেজা।

গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সামান্য একটু সহায়তাই পারে ছোট্ট শিশু পরান ও তার মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৬:১৯   ৯ বার পঠিত