
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় একটি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বিন্ন্যাফৈর নতুন বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিন্ন্যাফৈর নতুন বাজারে ২নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দলীয় সিদ্ধান্তে একটি কার্যালয় খোলা হয়েছিল। চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটার ব্যস্ততার কারণে গত তিন দিন ধরে অফিসটি তালাবদ্ধ ছিল।
আজ শনিবার সকালে সুলতান ভূঁইঞা নামে এক ব্যক্তি ওই বাজারের একটি ফার্মেসিতে ওষুধ নিতে এসে দেখেন অফিস ঘরের বাইরের তালা খোলা।
সন্দেহ হলে তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান অফিসের ভেতরে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন এবং টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীদের জানানো হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ফকির, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রঞ্জু, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আঃ মজিদ ও পোগলদিঘা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেন,
”নিশ্চিতভাবেই এই ঘটনা বিগত দিনের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরেরা ঘটিয়েছে। আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তাদের ছাড় দিচ্ছি বলেই তারা আজ পার্টি অফিসে আগুন দেওয়ার মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছে। আমরা এই জঘন্যতম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরিষাবাড়ী থানার তদন্ত অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আপাতত ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, এটি কোনো দুর্বৃত্ত চক্রের কাজ বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৭:০৭ ৯ বার পঠিত