শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকেও স্বৈরাচারের পরিণতি ভোগ করতে হবে

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকেও স্বৈরাচারের পরিণতি ভোগ করতে হবে
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬



গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকেও স্বৈরাচারের পরিণতি ভোগ করতে হবে

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকেও স্বৈরাচারের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, যে পথ ধরে স্বৈরাচার হেঁটেছে, বিএনপিও এখন সেই একই পথে হাঁটছে। জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ রেহাই পায়নি। এসময়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদের বয়স আড়াই মাসও হয়নি, অথচ সরকার আপাদমস্তক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। আমরা সরকারকে সময় ও সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা উল্টো পথে হাঁটছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি একসময় দেশে অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে অনির্বাচিত প্রতিনিধি বসিয়েছে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, তারা সংবিধান সংস্কার মানে না, মানবাধিকার কমিশন মানে না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও দিতে চায় না। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই বিচার বিভাগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।

গুম কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা গুম কমিশন মানেন না। জনগণও আপনাদের মেনে নেবে না। এ দেশের জনগণ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারতের পরীক্ষামূলক ভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালানোর সুযোগ ৫৫ বছরেও শেষ হয়নি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে করতে হবে। পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আগে নদীর দিকে নজর দেন এরপর খালখনন কর্মসূচি পালন করেন। কারণ নদীতে পানি না থাকলে খালে পানি থাকবে কীভাবে।

সংসদের কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বেকারত্ব, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংক-বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে। অথচ সেখানে ৫৫ বছর আগের ইতিহাস নিয়ে বাহাদুরি দেখানো হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে যে মানবিক বিপর্যয় চলছে, সে বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বক্তব্য জানতে চাই। শুধু হুমকি-ধামকি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই।

সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিডি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম), জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান এমপি। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডল সমাবেশ পরিচালনা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৫১:১৩   ১১ বার পঠিত