
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বর্বরোচিত হামলা, নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাস্তায় নামল তৌহিদী জনতা। সরকারদলীয় এমপি নিলুফা চৌধুরীর যাকাত সংক্রান্ত বক্তব্য এবং আমেরিকা থেকে হারাম মাংস আমদানির অভিযোগের প্রতিবাদেও সোমবার সকালে উত্তাল হয়ে ওঠে উপজেলা শহর।
সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। “নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার” স্লোগানসহ বিভিন্ন স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে উপজেলার প্রধান সড়কগুলো। হাজারো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত এই তাকবির ধ্বনিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। আলফাডাঙ্গা উপজেলার উলামা-মাশায়েখ ও তাওহিদী জনতার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, মুসলিম উম্মাহর ওপর চলমান নির্যাতন, ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত এবং ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে জনমত গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। মিছিল ও সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন, মাদরাসা শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসল্লিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন আলফাডাঙ্গা কওমি উলামা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা তামিম আহমাদ, সভাপতি মুফতি সিরাজুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা আহসান উল্লাহ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ঘরবাড়ি জ্বালানো হচ্ছে, মসজিদে হামলা হচ্ছে, নারী-শিশু পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। এটা শুধু একটি সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ নয়, এটা মানবতা, ন্যায়বিচার আর সহাবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—ধর্মের নামে ঘৃণা ছড়ানো, নিরীহ মানুষের ওপর হামলা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।
তারা আরও বলেন, ভারত সরকারের উচিত অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নীরবতা মানেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। তাই আন্তর্জাতিক মহলকেও এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
দেশের প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বক্তব্য, হারামকে হালাল করার মতো অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে। নেতৃত্বের আসনে থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলা কারও কাছেই কাম্য নয়।
বক্তাদের ভাষ্য, আমরা হিংসা চাই না, রক্তপাত চাই না। আমরা চাই ন্যায়বিচার, শান্তি আর ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা। তাই আজকের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানোর শপথ। যতদিন ন্যায় প্রতিষ্ঠা না হবে, ততদিন আমাদের কণ্ঠ স্তব্ধ হবে না, ইনশাআল্লাহ।
সমাবেশ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নির্যাতিত মানুষের মুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মুসল্লিরা চোখের পানিতে দোয়ায় শামিল হন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১১:৩৯ ১১৯ বার পঠিত