![]()
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক কলেজছাত্রীকে (১৯) জোরপূর্বক কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে সম্পাদন এবং পরবর্তীতে একটি আবাসিক ভবনে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারটি গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ড বাজার এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করলেও তাদের মূল বাড়ি সরিষাবাড়ীর ধোপাদহ গ্রামে।
অভিযোগ মতে, প্রায় এক বছর আগে মামলার ২নং বিবাদী সাইফুল খান (৪২) ওই ছাত্রীর সাথে ১নং বিবাদী মোঃ মানিক মিয়া ওরফে নাহিদের (২৫) বিয়ের প্রস্তাব দেন। পড়াশোনা চলমান থাকায় ছাত্রীর পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১নং বিবাদী মানিক ওই ছাত্রীর বড় ধরণের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিলেন।
গত (২১ মে) কলেজের প্রয়োজনে জন্মনিবন্ধনের কপি তুলতে ওই ছাত্রী গাজীপুর থেকে সরিষাবাড়ীর ভাটারা বাজারে আসেন। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদী সাইফুল ও মানিক তাকে জরুরি কথার অজুহাতে ভাটারা বাজারের উত্তরের বিলপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন ৩ থেকে ৬নং বিবাদী যথাক্রমে ইলিয়াস, লিমন, জনি ও শুনতুইলা।
সেখানে বিবাদীরা ছাত্রীকে মানিকের সাথে বিয়ে করতে চাপ দেন এবং অস্বীকৃতি জানালে খুনের হুমকি প্রদর্শন করেন। পরে জীবন রক্ষার্থে ভয় পেয়ে ছাত্রীটি তাদের সাথে যেতে বাধ্য হন। বিবাদীরা তাকে ভাটারা বাজারস্থ ৭ নং বিবাদী কাজী মোঃ শামীমের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে রেজিষ্ট্রেশন ভলিয়মে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাদী সাইফুল ছাত্রীকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ভলিয়মে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
কাজী অফিসের ঘটনার পর, ওই দিনই (২১ মে) রাত আনুমানিক ৯:০০ টার দিকে ১ নং বিবাদী মানিক অপরাপর বিবাদীদের সহায়তায় সিএনজিযোগে ছাত্রীকে শিমলাবাজার ইস্পাহানী এলাকার রাহী বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলার একটি ইউনিটে (যা ৪ নং বিবাদী লিমনের ভাড়াকৃত বাসা) নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অন্য বিবাদীরা পাশের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে ২৪ মে পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দিন ওই কক্ষে আটকে রেখে ১ নং বিবাদী মানিক ভুক্তভোগী ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৪ মে রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে বিবাদীরা ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ধোপাদহ গ্রামে তার নিজ বাড়ির সামনে রেখে আসেন। এ সময় ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ছাত্রীটি তার পরিবারকে বিস্তারিত জানালে পরিবার তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করায়।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা ও পরামর্শের পর ২৫ মে দিবাগত রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় এই এজাহার দায়ের করেন।
সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৩:৩৬ ৫৬ বার পঠিত