
জামালপুর প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৩৪ বছর পর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে মেতে উঠলেন পুরনো বন্ধুরা। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি ১৯৯২ ব্যাচের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (৩০ মে) দিনব্যাপী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজ ও ভাটারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী এবং ১৯৯২ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মমিনুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বিএসসি।
শনিবার সকালে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্কুল ক্যাম্পাস। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ের ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা আনন্দে, যেন ক্ষণিকের জন্য ফিরে পেয়েছিলেন নিজেদের হারানো শৈশবকে। কর্মজীবনের সব ক্লান্তি ভুলে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন সবাই। ৯২ সালের সেই চিরচেনা পুরনো ক্যাম্পাস বর্তমানে না থাকলেও, নতুন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন অনেকে। প্রাণের বিদ্যালয়ে সতীর্থরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও কোলাকুলির মাধ্যমে বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেন।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে ভাটারা স্কুল এন্ড কলেজ ও ভাটারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়। প্রিয় শিক্ষকদের হাত থেকে একসময় শিক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীরা আজ কর্মজীবনের সফল অবস্থানে থেকে শিক্ষকদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজনে অংশ নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আব্দুল করিম, ফরহাদ হোসেন কিনা, আনিছুর রহমান কাজল, কামাল হোসেন ও বাবলী রহমানসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন “দীর্ঘ ৩৪ বছর পর শুধু বন্ধুত্বের টানে এবং শৈশবের মধুর স্মৃতি রোমন্থন করতেই আমাদের এই ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলার আয়োজন। আমরা আজ যেন আমাদের স্বপ্নের দরবারে, স্মৃতির আঙিনায় ছুটে এসেছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও আনন্দময় মুহূর্তগুলো এখানেই কাটিয়েছি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাক্তন ও বর্তমানদের মাঝে যেমন একটি মেলবন্ধন তৈরি হলো, তেমনি পরস্পরের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হলো।”
দিনব্যাপী রঙিন এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে এক আনন্দঘন পরিবেশ ও আগামীতে আবারও সবার এক হওয়ার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৯:০৬ ৫ বার পঠিত