![]()
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠার চিন্তা ও উদ্যোগের অন্যতম রূপকার ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি মুসলিম বিশ্বের নেতাদের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব আজও জাতিকে পথ দেখায়।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী, সাহসী ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রনায়ক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে জীবন দিতে হয়েছে, কিন্তু তাঁর আদর্শ আজও কোটি মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠার চিন্তা ও উদ্যোগের অন্যতম রূপকার ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে শহীদ জিয়ার বিশেষ অবদান ছিল। সৌদি বাদশার সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। তিনি সৌদি বাদশাকে বাংলাদেশ থেকে নিমগাছ উপহার দিয়েছিলেন। সেই নিমগাছ আজও স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে এবং অনেকের কাছে ‘জিয়ার নিমগাছ’ নামে পরিচিত। এটি শহীদ জিয়ার কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন।
তিনি আরও বলেন, দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি তিনি সবসময় গুরুত্ব দিতেন। সৌদি বাদশার কাছে তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের উন্নয়নে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশে গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ ও কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও কর্মপরিকল্পনার ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির এবং পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন মোল্যা এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নিয়ামত হোসেন পারভেজ।
এ সময় বক্তব্য দেন মো. আরব আলী, ফয়সাল, সৈয়দ লিটন, শাহরিয়ার, ডালিম বিশ্বাস, জামসেদ মোল্যা, মো. ফয়সাল সরদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৬:৪৪ ১৫ বার পঠিত