![]()
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে নয়াদিল্লির মানমন্দির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
শনিবার (৬ জুন) দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর পুলিশ এ কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেয়।
এর আগে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দীপকে ঘিরে ধরেন ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকের ১০-১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা। পরে পুলিশ ছেড়ে দিলে বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে যান দীপকে।
নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক বিভিন্ন কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভ ডাকা হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে অভিজিৎ দীপকে বলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান চলে যেতে হবে।
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দিল্লি পুলিশ নয়াদিল্লিতে প্রায় ২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বাসভবন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভ ঠেকাতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার নির্দেশনা চেয়ে ‘জনস্বার্থে মামলা’ হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ওই মামলার শুনানি করতে শুক্রবার অস্বীকৃতি জানায় দিল্লি হাইকোর্ট।
গত বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন করেন ককরোচ জনতা পার্টি। সংবাদ সম্মেলন থেকে নেতারা এনইইটি, সিবিএসই ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফলাফলের ত্রুটিসহ নানা বিতর্কের কারণে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
পাশাপাশি দাবি আদায়ে তারা শনিবার (৬ জুন) রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করে, এনইইটি, এসএসসি, সিবিএসইসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। এতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ব্যর্থতার জন্য সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে।
সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির শুরু হয় একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা থেকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের কিছু অংশকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিজিৎ দীপকে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন।
এরপর এটা একটা বড় যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যদিও এটা এখনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, এরপরও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এর ফলোয়ারের সংখ্যা এরই মধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। যা ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রায় দ্বিগুণ।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩০:১৬ ১৬ বার পঠিত