![]()
জাতীয় সংসদে ‘বগলদাবা’ কিংবা সংঘাতমুখী কোনো ভূমিকা পালন না করে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও গঠনমূলক উপায়ে দায়িত্ব পালন করে কার্যকর বিরোধীদল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সভায় বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহেরসহ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতে বাংলাদেশে দুই ধরনের বিরোধীদল দেখা গেছে। এক ধরনের বিরোধীদল ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, আরেক ধরনের বিরোধীদল সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দীর্ঘ সময় সংসদ বর্জন করতো। জামায়াত এ দুই ধারার কোনোটিই অনুসরণ করবে না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বগলদাবা বিরোধীদল হবো না, আবার এমন আচরণও করবো না যাতে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। উই উইল বি রিজনেবল অ্যান্ড লজিক্যাল।’
সংসদে ইতোমধ্যে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন, ব্যাংক খাতের সংকট ও সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সীমান্তে পুশ-ইন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, বিষয়টিকে সংবেদনশীল উল্লেখ করে নোটিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও তাদের দলের সংসদ সদস্য তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে সংসদে আলোচনার জোর দাবি জানান তিনি।
এ সময় সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী মার্চে সম্পূরক বাজেট আনার কথা থাকলেও জুনের মাঝামাঝি সময়ে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে জবাবদিহি দুর্বল হয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, অর্থবছরের শেষ দিকে এসে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তড়িঘড়ি করে ব্যয়ের ফলে অপচয় ও অনিয়মের বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বর্ষাকালে তড়িঘড়ি উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের তীব্র সমালোচনা করে অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন তিনি।
সংসদীয় আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ, দলীয় চরিত্রহনন বা অযথা প্রশংসা-স্তুতিতে সংসদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। আমরা এখানে কারও প্রশংসা করতে আসিনি, জনগণের পক্ষে কথা বলতে এসেছি।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদকে ‘মিলমিশের সংসদ’ আখ্যা দেওয়ার ধারণা নাকচ করে দিয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনে তারা ওয়াকআউট করতে পারেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে সংসদ বর্জন করবেন না।
সবশেষে সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত এই মুহূর্তে সংবিধান ঢেলে সাজানোর চেয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৩:৩৮ ১১ বার পঠিত