বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬



ফরিদপুরে আগুন নেভাতে গিয়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : চারদিকে নিস্তব্ধতা ভোরের ঘুম তখনও ভাঙেনি অধিকাংশ মানুষের। হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা আর মানুষের চিৎকারে কেঁপে ওঠে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ভেন্নাতলা বাজার। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীরা যখন নিজেদের সর্বস্ব রক্ষায় ছুটছেন, তখন অন্যদের সঙ্গে আগুন নেভাতে গিয়ে চার কন্যা সন্তানের জনক বাবুল মোল্যা (৩৫) একটি দোকানের ভেতরে থাকা সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে গুরুতর আহত হন বাবুল মোল্যা। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত পাঁচজন। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বাজারের পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোররাত চারটার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের যোগিবরাট ভেন্নাতলা বাজারে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবুল মোল্যা পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান মোল্যার ছেলে। পেশায় তিনি একজন নসিমন চালক ছিলেন।

স্থানীযরা জানান, সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন বাবুল। রেখে গেছেন চার কন্যাসন্তান, স্ত্রী এবং অনিশ্চয়তায় ভরা একটি পরিবার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের খবর পেয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ছুটে আসে। সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে থাকেন। এ সময় বাবুল মোল্যাও সাহসিকতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। হঠাৎ একটি দোকানের ভেতরে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে বাবুল মোল্যা, আল-আমিন, আকিদুল, জাহাঙ্গীর হোসেন, হোসাইন বিশ্বাসসহ কয়েকজন আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বাজারের নুর ইসলাম মিয়ার পাইকারি মুদি দোকানে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে পুড়ে যায় নুর ইসলাম মিয়ার পাইকারি মুদি দোকান, সাহেব আলীর চায়ের দোকান, হাবিব মোল্যার সার ও কীটনাশকের দোকান, বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকান এবং জাকির হোসেনের কাপড়ের দোকান। দোকানগুলোর ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসার পুঁজি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, তার কাপড়ের দোকানে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হাবিব মোল্যা বলেন, তার সার ও কীটনাশকের দোকানে প্রায় আট লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। বাবর আলীর সাইকেল মেরামতের দোকানেও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, আগুনের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। আগুন নেভানোর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজন নসিমন চালক নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় দোকানের ভেতরে থাকা একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে জানানো হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৪:৫৯   ৮ বার পঠিত