![]()
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: বৈধ বিবাহকে ধর্ষণ মামলা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। ২১ জুন (রবিবার) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১৯ জুন মানিক ওরফে নাহিদ নামের এক যুবকের ছবি ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলনের নামে একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য ছড়িয়ে দেয়। ওই সংবাদ সম্মেলনটি করেছেন নাহিদের শ্বশুরের সৎভাই সুমন শেখ এবং শ্বশুরের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকসানা। অথচ এই বিয়ের বিষয়ে মূল আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে মেয়ের বাবা ফিরোজ শেখ এবং তার বর্তমান (তৃতীয়) স্ত্রী দোলনা শেখের সাথে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, মেয়ের বাবা ফিরোজ শেখের পরামর্শে এবং পারিবারিকভাবে মধ্যস্থতাকারী সাইফুল খানের উপস্থিতিতে গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে শরীয়ত সম্মতভাবে নাহিদ ও ফারজু আক্তার রিতুর বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর ২১ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত রিতু নিখোঁজ থাকার বিষয়ে তার পরিবার থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি। পরবর্তীতে ২৫ মে অন্যের প্ররোচনায় সরিষাবাড়ী থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, “মামলার এজাহারে রিতু নিজেই উল্লেখ করেছে যে, কেবল নাহিদের সাথেই তার সম্পর্ক হয়েছে। অথচ ভাইরাল হওয়া সংবাদ সম্মেলনে সুমন শেখ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দাবি করেছেন যে ৭ জন মিলে রিতুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আমাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ওই বিয়ের কাজী এবং মামলার ৭ নম্বর আসামি কাজী মো. শামীম ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন, যা বিয়ের বৈধতাকে প্রমাণ করে। এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ভুক্তভোগী পরিবার জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা বিভাগের ডিসি বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সুমন শেখ এবং ফিরোজ শেখের দ্বিতীয় স্ত্রীকে অবিলম্বে এই মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কাবিননামা, মামলার এজাহার ও জামিননামাসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদর্শন করা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:২০:৩৮ ২৫ বার পঠিত