
সংসদ সদস্যরা বলেছেন, দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কল্যাণমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই এবারের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
তারা জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে চলতি অর্থবছরে সম্ভাব্য ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা জিডিপির যথাক্রমে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
অপরদিকে, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির যথাক্রমে ২ শতাংশ ও ১ দশমিক ২ শতাংশ।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কার্যত দ্বিগুণ হয়েছে। জিডিপির ১ শতাংশ অতিক্রম করে এ ঐতিহাসিক বরাদ্দ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক হ্রাসের উদ্যোগও ইতিবাচক।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসন-৩৮ এর বিরোধী দলের সদস্য মারজিয়া বেগম বিশ্বব্যাংকের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে দেশের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিবার আর্থিক চাপে রয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর স্বাস্থ্য খাতের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বরাদ্দ অব্যবহৃত থেকে যায়।
তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির অভাব সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করছে।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের সদস্য কামরুল হাসান বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৫ থেকে ৮ লাখ মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায় এবং এতে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা স্বাস্থ্য খাতের মোট বরাদ্দের সমপরিমাণ। তাই স্বাস্থ্য বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
বগুড়া-১ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন হলে সরকারের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
পাবনা-১ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মুহাম্মদ নজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের বাজেট প্রণয়নে কার্যকর অংশগ্রহণ নেই। অথচ যুক্তরাজ্যের মতো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ সদস্যরা বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকেন।
তিনি জনগণমুখী বাজেট নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস, সংসদের ভূমিকা শক্তিশালীকরণ এবং ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা-১ আসনের বিরোধী দলের সদস্য ইজ্জতউল্লাহ বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৩০ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং এ ঋণের সুদ বাবদ সরকারকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার স্থানীয় ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা হওয়ায় এ পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, আব্দুস সালাম, এম মাহমুদুল হক রুবেল, আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, মুসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, কে এম বাবর, আতিউল আলম, সুলতানা আহমেদ, সাদিক রিয়াজ, রবিউল আউয়াল, শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, মজহারুল ইসলাম, শাহজাহান চৌধুরী, রোকন উদ্দিন বাবুল ও সাচিং প্রুয়ে।
এছাড়া বিরোধী দলের সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, আব্দুল আলিম, নূরুন্নিসা সিদ্দিকা, সাবিকুন্নাহার ও মাছুম মোস্তফাও আলোচনায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৮:৫১ ৮ বার পঠিত