![]()
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে সশস্ত্র দুর্বৃত্তের হামলায় তিনজন নৃশংসভাবে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়েছেন। শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে কায়েতপাড়া নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকার মৃত ইয়াকুব বেপারীর ছেলে জুল হোসেন (৬২)বাদী হয়ে রোববার রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, মামলায় ১৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন,মামলার বাদীর বড় ছেলে দেলোয়ার (৪০), ছেলের মেয়ের জামাই ইমন (২৩) ও তার সমন্ধি আলী (৪৫)।
তাদের ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, ১। জাহিদ (২৮), পিতা-এছেক কুলু, ২। ওমর ফারুক (২৮), পিতা-আমির কাজী, ৩। রুবেল ওরফে রাউরাল রুবেল (৩০), পিতা-আফাজ উদ্দিন, ৪। শিপলু (২৬), পিতা-মফিজুল ইসলাম, ৫। রুবেল (৩২), পিতা-মৃত সালাম ওরফে সালেম, ৬। মিনারুল (৩০), পিতা-সেরাজুল, ৭। নুর হোসেন (৩২), পিতা-আমির কাজী, ৮। আমিনুল (৩৫), পিতা-দ্বীন ইসলাম, ৯। জহিরুল (৩২), উভয় পিতা-দ্বীন ইসলাম, ১০। স্বপন (২৫), পিতা-বাবুল মিয়া, ১১। সোহাগ (২১), ১২। সিয়াম (১৯), উভয় পিতা-খোকন, ১৩। এছেক কুলু (৪৮), পিতা-খালেক ওরফে আলেক কুলু, ১৪। নাঈম (২৮), পিতা-কবির, ১৫। ইয়ারজুল (৩৫). পিতা-সেরাজুল, ১৬।কাওছার (৩২), পিতা-বাদশা মিয়া, ১৭। শাকিল (২৬), পিতা-মৃত জাকির টুন্ডা, ১৮। দুলাল প্রধান (৪৮), পিতা-মৃত - আবুল বাশার ওরফে পাশা ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০-১২ জন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিবাদীদের সঙ্গে বাদী ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে বিবাদীরা কিছুদিন ধরে ভুক্তভোগীদের মারধরের চেষ্টা করে আসছিল।
শুক্রবার বিকালে বাদীর বড় ছেলে দেলোয়ার, ছেলের মেয়ে জামাই ইমন ও তার সমন্ধি আলী নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় হাটতে গিয়েছিলেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওতপেতে থাকা বিবাদীরা দেশীয় ধারালো রামদা, চাপাটি, ছুরি, লোহার রড ও লাঠি-সোটা নিয়ে চার পাশ থেকে অবরুদ্ধ করে। বাদীর বড় ছেলে দেলোয়ার (৪০) কে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো রামদা ও চাপাটি দিয়ে মাথায়, হাতে, পায়ে কুপিয়ে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে।পরে সবাই মাটিতে পরে গেলে তাদের সাথে থাকা ৩টি স্মার্ট মোবাইল ফোন যার মূল্য ৬০,০০০ টাকা তা তাদের কাছ থেকে ৮নং ও ১০নং বিবাদী ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং ১৪নং বিবাদী বাদীর পুত্রা আলী (৪৫) এর গলায় থাকা ৮ (আট) আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য আনুমানিক মূল্য ১,২০,০০০ টাকা তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাদের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীগন এই বিষয়ে কোন রকম বাড়াবাড়ি করলে বিবাদীগন বাদীর পরিবারের সদস্য ও পক্ষীয় লোকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ সুযোগমত পেলে জানে মেরে ফেলবে বলে চলে যায়।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা পরে আবারও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতর ঢুকে ধারালো রামদা, চাপাটি, ছুরি, লোহার রড ও লাঠি-সোটা নিয়ে জনসম্মুখে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর ছেলের মেয়ের জামাই ইমন (২৩) কে হাসপাতালের ভিতর ইমারজেন্সি বিভাগের সামনে পেয়ে ১ নং বিবাদী হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে মাথায় কোপ মেরে গুরুতর কাটা রক্তাক্তা জখম করে। ৩ নং বিবাদী জবাই করার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে গলায় পোচ মেরে গুরুতর কাটা রক্তাক্তা জখম করে। ২ নং বিবাদী হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো রামদা দিয়ে বুকের ডান পাশে কোপ মেরে গুরুতর কাটা রক্তাক্তা জখম করে। ৪ নং বিবাদী ধারলো রামদা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় কোপ মারলে উক্ত কোপ ছেলের মেয়ের জামাই ইমন (২৩) বাম হাত দিয়ে ফেরালে উক্ত কোপ তার বাম হাতের কব্জিতে লাগে ও কব্জি রগ সহ কেটে পড়ে যায়। বাদী জুল হোসেনের পুত্রা আলী (৪৫) বিবাদীদের বাধা দিতে গেলে ১৩নং, ১১নং ও ১৮নং বিবাদী হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো রামদা দিয়ে তাকে (আলীকে) এলোপাথারী মাথায় কোপ মেরে গুরুতর কাটা রক্তাক্তা জখম করে এবং অন্যান্য বিবাদীগন লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভাঙ্গা সহ নিলাফুলা জখম করে। তাদের ডাক চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন আগায় আসলে বিবাদীগন সকলেই প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বসুন্ধরা এভার কেয়ার হাসপাতেলে রেফার করা হয়।বর্তমানে তারা এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় আইসিওতে চিকিৎসাধীন আছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৮:৫৬ ১০ বার পঠিত