
ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর সদর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে মামলার বাদীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা সদর পিটিশন নং-২৭৩/২০২৬ মামলায় মল্লিকপুর গ্রামের কমেলা বেগম বাদী এবং একই গ্রামের চানো শেখ, তারা শেখ, সাগর শেখ, হালিম শেখ, চাম্পা বেগম, টুলি বেগম ও ফুলকি বেগমসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান , মৃত জলিল শেখ ও মৃত মোনাউল্ল্যা শেখ আপন দুই ভাই ছিলেন। জলিল শেখের স্ত্রী কমেলা বেগম এবং তাঁর দুই ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে একজন প্রবাসে ও অপরজন ঢাকায় চাকরি করেন। বাড়িতে রয়েছেন শুধু তাঁদের মা, স্ত্রী ও সন্তানরা।
পরিবারটির দাবি, জলিল শেখ ও মোনাউল্ল্যা শেখের সম্পত্তি সমান দুই ভাগে বণ্টন হওয়ার কথা থাকলেও মোনাউল্ল্যা শেখের উত্তরাধিকারীরা তা মানতে রাজি নন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মল্লিকপুর মৌজার বিএস খতিয়ান নং-২৮৩-এর দাগ নং-৬৫২ ও ৬৬৪-এর মোট ৪৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, এটি তাঁদের পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তি এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালী থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে ১৪৪ ধারার নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আদালতের নির্দেশ মেনে চলা এবং কোনো ধরনের শান্তিভঙ্গমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ২৯ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই বিবাদীপক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে কমেলা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে কমেলা বেগমসহ পরিবারের কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, পুরো ঘটনার পেছনে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা আলমগীরের প্রভাব রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৩:০১ ৬ বার পঠিত