বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন,মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ ভুক্তভোগী বাবুল বয়াতির

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন,মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ ভুক্তভোগী বাবুল বয়াতির
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬



কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন,মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ ভুক্তভোগী বাবুল বয়াতির

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি : মাদারীপুরের কালকিনিতে টাকা লেনদেনের একটি মামলায় সম্পূর্ণ অন্যায় ও সুকৌশলে নাম জড়িয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ বাবুল বয়াতি।
​আজ (৯জুন)‌বিকা‌লে কালকিনি মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কালকিনির বাঁশগাড়ি করিমগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সরোবর (ছরোয়ার) বয়াতির ছেলে মোঃ বাবুল বয়াতি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাবুল বয়াতি জানান, গত ০৩/০৩/২০২৬ ইং তারিখে একই এলাকার মৃত আবুল কাশেম বেপারীর ছেলে মোঃ আলাউদ্দিন বেপারী বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার বাবা মোঃ ছরোয়ার বয়াতিকে ১ নম্বর এবং তাকে (বাবুল বয়াতি) ২ নম্বর আসামি করা হয়। মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তার বাবা বাদীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন। উক্ত স্ট্যাম্পে সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মোঃ নিজাম সরদার, মোঃ হাবি ও মোঃ কামাল।

বাবুল বয়াতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”এই টাকা লেনদেন বা স্ট্যাম্পের কোথাও আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা বা স্বাক্ষর নেই। অথচ বাদী আলাউদ্দিন বেপারী সুকৌশলে আমার নাম মামলায় জড়িয়েছেন। মামলার তদন্ত চলাকালীন কালকিনি থানার এসআই হানিফ সরকার আমাকে বিষয়টি জানালে, আমি বাদীকে সরাসরি প্রশ্ন করি কেন আমাকে মামলায় জড়ানো হলো? উত্তরে বাদী আলাউদ্দিন বেপারী জানান—’তোর বাবাকে পাওয়া যায় না, তাই তোর নাম দিয়েছি।’ বাদী আমার কাছে স্বীকার করেছেন যে আমি এই লেনদেনের সাথে জড়িত ছিলাম না। যার স্পষ্ট ভিডিও রেকর্ড আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।”

ভুক্তভোগী বাবুল বয়াতি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অসহযোগিতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, বাদীর স্বীকারোক্তির ভিডিওটি তিনি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হানিফ সরকারকে দেখান। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাকে বারবার ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। বাবুল বয়াতি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে কথা বলার অনুরোধ করলেও তদন্ত কর্মকর্তা তাতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তার সাথে ‘ব্যক্তিগতভাবে’ দেখা না করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আদালতে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে ৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি যুক্ত করা হয়।

বাবুল বয়াতি আরও বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৫ জন সাক্ষীর মধ্যে দুইজন সাক্ষী—মোঃ কামাল বেপারী (পিতা: মৃত সিকান্দার বেপারী) এবং আব্দুর রহিম সরদার (পিতা: মৃত আলী আকবর সরদার)-এর সাথে আমি সরাসরি যোগাযোগ করি। তারা দুজনেই আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা আমার বিরুদ্ধে এমন কোনো সাক্ষ্য দেননি। এবং আমি এই লেনদেনের সাথে জড়িত নই তাও তারা জানেন। উক্ত সাক্ষীদের সাথে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও আমার কাছে আছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বাবুল বয়াতি আক্ষেপ করে বলেন, তারা ৫ ভাই ও ১ বোন। তার বাবা অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেছেন এবং সেখানেও এক বোন রয়েছে। অথচ পরিবারের অন্য কাউকে না জড়িয়ে শুধু তাকেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সাথে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাটির সঠিক ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবি জানান এবং এই মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:২৩:০৭   ৮ বার পঠিত