![]()
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে আমাদের সরিয়ে দিতে বিভিন্নভাবে অনেক কথা বলা হচ্ছে। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি-লড়াই আমরা করে যাব। আমাদের পরিষ্কার কথা-আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুল পরিমাণ আমরা সরব না। আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম। গণভোট বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারকে আমরা বাধ্য করব-ইনশাআল্লাহ।
শনিবার বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন (শেখ হাসিনা) দেশে আসার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু আমরা তার ফাঁসির দড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। যখনই দেশে আসুন ফাঁসির দড়িতে আপনাকে ঝুলতে হবে। নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে যিনি পালিয়ে যান, তিনি আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসেন না।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সব দুর্নীতিবাজ এক হয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ঘুঘু তুমি ধান খাও বারবার, ধরা পড়বা একবার। আগামী দিনে এ সুযোগ আর দেবে না জনগণ। তখন ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে ১১ দল সরকার গঠন করবে- ইনশাআল্লাহ।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, দেশের আইনশৃঙ্খা পরিস্থিতি, সীমান্তে উত্তেজনা, কৃষকদের অবস্থা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জনদুর্ভোগ-দুঃখদুর্দশার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানরা লড়াই করেছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশে গণভোট হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেননি।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যান। আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছিÑচীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শূন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো প্রতিশ্র“তি নেই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো প্রতিশ্র“তি নেই। তিনি বলেন, দেশে জাতীয় ঐক্য না থাকলে তারেক রহমান পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাবেন না। এরই মধ্যে আইএমএফ বলেছে, তারা কোনো ঋণ দেবে না।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছেন। আমরা ফাঁসির দড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন, ফাঁসির দড়িতে আপনাকে (শেখ হাসিনা) ঝুলতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায়, সে আর দেশে কখনো ফিরে আসে না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। ইংরেজরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ কাপুরুষোচিতভাবে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে। এ দেশে আসার আর সৎ সাহস তিনি (শেখ হাসিনা) কখনো রাখবেন না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লির সঙ্গে ঢাকাকে নির্ধারণ করতে হবে। দিল্লিতে বসে হাসিনা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার দোসররা সেই সব তথ্য প্রচার করছে। এটা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।
সমাবেশে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ-সদস্য গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের সংসদ-সদস্য রায়হান সিরাজী, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, এনসিপির রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:১০:৪৬ ৪ বার পঠিত