![]()
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নবনির্মিত অফিস ভবনের একাংশ ভারী বর্ষণে ভেঙে মাটির নিচে দেবে গেছে। একই সাথে ভবনটির বাউন্ডারি ওয়ালের একটি বড় অংশজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আসাদুজ্জামান খান।
পরিদর্শনকালে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শামছুল হক, সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবিনা খাতুনসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত ভবনটির উত্তর পাশের একটি রুমসহ একাংশ ধসে মাটির নিচে দেবে গেছে। দেয়াল ও কাঠামোর বড় একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। পুরো ভবনজুড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সম্পূর্ণ ভবনটি নদীগর্ভে বা মাটির নিচে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভবনের বাউন্ডারি ওয়াল ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি পাশের আরেকটি ওয়ালও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শামছুল হক জানান,খাদ্য গুদাম এলাকার সমস্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পাইপের জোড়া খুলে গিয়ে এই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসে পরিদর্শন করেছেন।
জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আসাদুজ্জামান খান বলেন, “ভবনটি নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ভারী বর্ষণে নদীতে পানি বাড়ায় মাটির নিচে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের বাকি অংশও দেবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিরসনে দ্রুত প্রকৌশলগত তদন্ত ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সরকারি অর্থায়নে ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই অফিস ভবনটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২ বছর পার হলেও ভবনটিতে কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করা হয়নি; শুধুমাত্র উদ্বোধন করেই ফেলে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটি আজ এই অবস্থায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নির্মাণকাজে চরম নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই এত অল্প সময়ে সরকারি এই স্থাপনাটি ধসে পড়েছে। তারা এটিকে সরকারি অর্থের অপচয় আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৮:৫১ ২২ বার পঠিত