![]()
জ্বালানি সংকট একটি বহুমাত্রিক সমস্যা এবং এর কোনো একক সমাধান নেই। তাই কয়লা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অন্যান্য ফুয়েল মিক্স করে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানি বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ম. তামিম।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আয়োজিত পলিসি কনক্লেভে প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার বা পারমাণবিক শক্তির দিকে ধাবিত হওয়াও আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
অধ্যাপক তামিম আরও বলেন, কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি যথেষ্ট সংবেদনশীল।
বর্তমানে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াটের মতো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে। বৈশ্বিক দূষণের চেয়ে এখানে স্থানীয় দূষণই বড় শঙ্কা।
তবে কয়লা ব্যবহারের প্রধান সমস্যাই হলো বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণ, যা আমাদের ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে।
তিনি জানান, পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য যে সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি রয়েছে, সেগুলোর জন্য প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কয়লার প্রয়োজন হবে। সুপরিকল্পিত উপায়ে নিজস্ব উৎপাদন থেকে বার্ষিক ১০-১৫ মিলিয়ন টন কয়লা সংগ্রহ সম্ভব হলেও পরিবেশগত বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজন।
সোলার পার্ক ও রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে বেশিরভাগ বাড়িই পৃথক যা বাংলাদেশে দেখা যায় না। এখানে ঘনবসতি বেশি হওয়ায় ব্যক্তিগত আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিধি অত্যন্ত সীমিত । তবে বাণিজ্যিক ভবন, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ ও সরকারি ভবনের ছাদ সোলার প্যানেল বসানোর জন্য উপযোগী।
তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি খাতের হাতে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব থাকলেও জমির সমস্যা ও স্পট পলিসির অভাবে এ পর্যন্ত গ্রিডে মাত্র এক হাজার মেগাওয়াটের মতো সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হতে পেরেছে। সরকারি জমি অধিগ্রহণ বা ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ উদ্যোগের মাধ্যমে রিভার্স অকশন করে আগামী ২ বছরে অন্তত পাঁচ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
জ্বালানি সংকট নিরসনে শক্তি সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ইনভার্টারযুক্ত এসি বা রেফ্রিজারেটর ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ ২০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। নীতিমালার মাধ্যমে সাধারণ ডিভাইসে কর বাড়িয়ে ইনভার্টার প্রযুক্তিতে ছাড় দেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পুরোনো মোটরের বদলে ‘ভ্যারিয়েবল স্পিড মোটর’ এবং সাধারণ ফ্যানের পরিবর্তে ৬০ ওয়াটের ফ্যান ব্যবহারের নীতি তৈরি করতে হবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ভাবনা নিয়ে ম তামিম বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আনা এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মূল্যের বিদ্যুৎ। রিজিয়নাল কোঅপারেশন (আঞ্চলিক সহযোগিতা) ছাড়া ভবিষ্যতে সৌর বা বায়ুবিদ্যুতের মতো পরিবর্তনশীল শক্তি পরিচালনা করা সিস্টেম অপারেটরের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:২০:৪২ ৮ বার পঠিত