রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬



রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর, বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

একইসঙ্গে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি গঠনের ঘোষণা দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি গঠনের ঘোষণা শুধু একটি কূটনৈতিক অর্জন নয়, এটি পারস্পরিক আস্থা, গভীর সহযোগিতা ও যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।

পাশাপাশি প্রতিবেশী কূটনীতি, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা এবং সব উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রস্তাবিত ‘২+২ সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম কৌশলগত সংলাপ দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের সদ্য অনুমোদিত পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও দুই দেশের সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন নিজ নিজ ইতিহাস, বাস্তবতা ও উন্নয়ন দর্শনের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো দেশের উন্নয়ন মডেল অন্য দেশে হুবহু প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় বাস্তবতার আলোকে সহযোগিতা আরও কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বাস্তববাদী অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

এই লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনশিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে চীনা বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। একইসঙ্গে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বাড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক অংশীদারত্বের ওপর নির্ভর করতে চায় না। বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায়।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় স্বার্থ, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিত্তিতে আগামী দিনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৪:৩৩   ১৫ বার পঠিত