বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিমার্ণের স্থান এ বছরই চূড়ান্ত হবে : ইউজিসি

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিমার্ণের স্থান এ বছরই চূড়ান্ত হবে : ইউজিসি
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬



কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিমার্ণের স্থান এ বছরই চূড়ান্ত হবে : ইউজিসি

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণে ফের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি দল। গত সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে দলটি সমন্বয় সভায় মিলিত হয়। এ সময় চলতি বছরেই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কাজ শুরু আশ্বাস দেন ইউজিসি’র প্রতিনিধি দল।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি’র সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িকৃবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম। এ ছাড়াও বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুমোদনের পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শহরের দক্ষিণে নালিয়ার দোলা নামক স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে তা বরাদ্দের জন্য সুপারিশ করে ইউজিসি। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জায়গা বরাদ্দে প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালে ভাড়া ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দু’টি ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম চলছে।

এদিকে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পূর্ব নির্ধারিত স্থান নালিয়ার দোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়। নতুন করে স্থান নির্বাচনের দাবি ওঠে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক চলে। পূর্ব নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে সদরের হলোখানা ইউনিয়নের দাশেরহাটের ছড়া এলাকা এবং ধরলা নদীর পূর্ব প্রান্তে ক্যাম্পাসের জন্য স্থান নির্বাচনের দাবি তোলে বিএনপির একটি পক্ষ। তারা ওই স্থানে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য প্রশাসনসহ ওপর মহলে দাবি উত্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে ফের স্থান পরিদর্শনে আসে ইউজিসি’র প্রতিনিধিদল।

জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ইউজিসি নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করে স্থান নির্ধারণের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তবে নালিয়ার দোলা ও দাশেরহাট এলাকার বাসিন্দা ও নেতৃবৃন্দ তাদের নিজ নিজ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানান। তবে সব পক্ষই দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শুরুর দাবি জানান।

সভা শেষে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ইউজিসি’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়াসহ ৫ সদস্যের একটি কমিটি ক্যাম্পাসের জন্য পূর্ব নির্ধারিত নালিয়ার দোলা নামক স্থান পরিদর্শন করেন। এরপর তারা দাশেরহাট ছড়া এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ফের জায়গা পরিদর্শনে এসেছি। আগের সরকারের নেয়া বড় প্রকল্পগুলো শুরু করার আগে ফের যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা রয়েছে। তার মানে এখনই এটা বলা হচ্ছে না যে আমরা আগের নির্ধারিত নালিয়ার দোলা জায়গাটি বাদ দিয়েছি কিংবা দাশেরহাট ছড়া এলাকা চূড়ান্ত করেছি। বরং আমরা অধিকতর যাচাই করতে এসেছি। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণে ইউজিসি’কে যে যে নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করতে হয়, তার সাথে কোন জায়গাটি অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ তা কমিটি যাচাই করবে। সেক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব আমলে নেয়া হবে না। এ বছরের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করা যায় কি-না সেই প্রচেষ্টা আমার থাকবে।’

স্থান নির্ধারণে অংশীজনদের মতভেদ নিয়ে অধ্যাপক মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি কুড়িগ্রামের। এটি কুড়িগ্রামের মানুষের প্রতিষ্ঠান। সুতরাং উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সকলকে একমত হতে হবে। তাহলে কুড়িগ্রাম এগিয়ে যাবে। যে স্থান নির্বাচন করা হোক না কেন, জেলার বৃহত্তর স্বার্থে মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। না হলে প্রকল্প ঝুলে যাবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৩:৪২   ৪ বার পঠিত