![]()
বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘মানবপাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ভূমিকা’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে আয়োজিত এই সেমিনারে বক্তারা মানবপাচার রোধে আইনের শাসনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক জাগরণ ও গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) এবং বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সাংস্কৃতিক কর্মকা- জরুরি। আমাদের দেশে সাংস্কৃতিক চর্চা কমে যাওয়ায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।’
মানব পাচার প্রতিরোধে আইনের শাসনের পাশাপাশি শিক্ষার বিকাশের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নিরক্ষর মানুষ যেন প্রতারণা, শোষণ ও পাচারের শিকার না হয়, সেজন্য তাদের শিক্ষিত করে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের উপযোগী করে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, মানব পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর তথ্যপ্রমাণ ও উপাত্তভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সেবায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন রেজাউল করিম সোহাগ। তিনি আন্তঃদেশীয় ও অভ্যন্তরীণ মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং শিশুর প্রতি বাণিজ্যিক যৌন শোষণের চিত্র তুলে ধরে এসব অপরাধ দমনে সম্প্রতি ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’-এর কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ডুজা সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ‘সিফুড ফ্রম স্লেভস’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী প্রতিবেদন কীভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দাসশ্রমের শিকার ২ হাজারের বেশি মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে, এটি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং ঢাবির শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রতন মালো।
সঞ্জয় কুমার দে বলেন, একটি পরিবারের একজন মানুষ পাচার হওয়া মানে সেই মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও ওই সমাজের সংস্কৃতিও পাচার হওয়া।
এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ‘প্রতারণার আড়ালের ফাঁদ’ উল্লেখ করে সেমিনারে অনলাইন প্রতারণার আড়ালে মানবিক সংকট ও সাইবার দাসত্বের বিষয়টিও আলোচিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম) ও ‘কোটনেট’-এর প্রতিনিধিবৃন্দসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। সেমিনারের শুরুতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মানব পাচার বিষয়ক ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়। পরে চারুকলা অনুষদের খ-কালীন শিক্ষক শিল্পী এস এম রকিবুল হাসানের বাঁশির সুরে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ সময়: ২২:২০:১৩ ৪ বার পঠিত