রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

রাজনীতিতে অশালীন ভাষা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর : রিজভী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » রাজনীতিতে অশালীন ভাষা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর : রিজভী
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬



রাজনীতিতে অশালীন ভাষা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর : রিজভী

রাজনীতিতে অশালীন ভাষার ব্যবহার গণতন্ত্র, সভ্যতা ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শালীন ভাষা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা বজায় রাখা উচিত।

রবিবার (২ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই রক্তাক্ত : স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাতেন। আমরা তাকে ফ্যাসিস্ট ও খুনি বলেছি, কিন্তু কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করিনি। এখন কিছু তরুণ নেতার বক্তব্যে যে ভাষা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র, সভ্যতা কিংবা উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহায়ক নয়।
এই ভাষা শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতিরই প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘সমাজে ঘৃণার রাজনীতি করে কেউ টিকে থাকতে পারে না। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার পরাজয় হয়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উচিত সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘যারা তরুণ রাজনীতি করেন, তাদের চিন্তা-ভাবনা হওয়া উচিত প্রগতিশীল ও অগ্রগামী। দেশকে নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যয় থেকেই তরুণদের রাজনীতি করা উচিত। কিন্তু আপনারা একটি পশ্চাৎমুখী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছেন। রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকেও এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন গুলি চালিয়ে, রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়ে তিনি ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবেন।
কিন্তু তিনি এ দেশের মানুষের সাহস ও বীরত্বের ইতিহাসকে মূল্যায়ন করতে পারেননি। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালিয়েছেন। ক্ষমতার জন্য নিজের দেশের মানুষের রক্তের ওপর দিয়েও হাঁটতে তার দ্বিধা ছিল না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব ১৭ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার দৃঢ় অবস্থান থেকে শেখ হাসিনা তাকে বিচ্যুত করতে পারেননি।’

প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন সরকার নিজেদের লোক নিয়োগ দেয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রচলিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েলস সিস্টেম’-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হাজার হাজার পদে নতুন নিয়োগ হয়। এটি বেআইনি নয়।’

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দলীয়করণ ঘটবে।’

সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে বলেন, ‘গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হল ও শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে এবং এ ঘটনায় প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়।’

তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও সাইবার বুলিং করে আসছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে চালু করা ‘ফিমেল কর্নার’-এরও সমালোচনা করেন তিনি।

এনসিপির নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন নাছির উদ্দিন নাছির। পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে উদ্দেশ করে কড়া মন্তব্য করেন।

আলোচনাসভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, মহানগর বিএনপি এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫১:৫৩   ৭ বার পঠিত