সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রথম পাতা » কৃষি ও বাণিজ্য » বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬



বাংলাদেশ-কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, এটি কেবল একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক জোট গঠনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু-এর সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার অভাবনীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে দেশটি উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের জন্য কোরিয়ার উন্নয়ন অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে মূল্যবান দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির একটি দৃঢ় অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এই প্রেক্ষাপটে সিইপিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো গভীর, বিস্তৃত এবং বহুমাত্রিক করবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বাংলাদেশকে তার ‘দ্বিতীয় শহর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনীতি, ক্রমবর্ধমান শিল্পভিত্তি এবং বৃহৎ ভোক্তা বাজার দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

ইয়ো হান-কু বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি আগামী দুই দশকে দুই দেশের বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সিইপিএ চুক্তির সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধা সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত উভয় দেশের কর্মকর্তা, আলোচক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারির প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবশিষ্ট আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৬:৩৮   ৮ বার পঠিত