মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

অভিবাসী চিন্তাধারার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বোঝা যাবে না : তথ্যমন্ত্রী

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » অভিবাসী চিন্তাধারার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বোঝা যাবে না : তথ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬



অভিবাসী চিন্তাধারার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বোঝা যাবে না : তথ্যমন্ত্রী

কোনো ধরনের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দের নতুন বয়ান তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর বাস্তবতার সাথে বাংলাদেশের কোনো মিল নেই।

তিনি বলেন, ‘অভিবাসী চিন্তাধারার মনোজগৎ বা চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বা নৃবিজ্ঞানকে বোঝা সম্ভব নয়। ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দ ও ধারণাটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

সিএইচটিআরএফ চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব দেশে বহিরাগত অভিবাসীরা এসে মূল অধিবাসীদের তাড়িয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে, সেখানে আদিবাসীদের একটি ঐতিহাসিক ক্ষোভ রয়েছে, সেই পাপ মোচনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো অভিবাসী এসে মূল বাসিন্দাদের তাড়িয়ে জমি দখল করেনি। আমাদের জনমিতি ও জাতি গঠিত হয়েছে হাজার বছরের নৃবিজ্ঞানের প্রাকৃতিক বিবর্তনের ধারায়। তাই এখানে বহিরাগত অভিবাসী বনাম আদিবাসীর কোনো বিরোধের অবকাশ নেই।’

মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পরিচয় এবং জনমিতির ওপর অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক সৃষ্টি করা এক ধরনের অপকৌশল হতে পারে। আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা উপস্থাপন করেছেন, যা আমাদের জাতির পরিচয়গত সংকট নিরসন করেছে। এই সংহত পরিচয়কে অক্ষুণ্ন রাখতে ভুল বয়ানের বিপরীতে সঠিক ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।’

সংখ্যাগরিষ্ঠের মনোজগৎ দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যা সঠিকভাবে বোঝা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, এমরান সালেহ প্রিন্স, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী মোহাম্মাদ রাশেদ খান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথি ও আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল, ড. আবদুল হাই সিদ্দিকী, এম আবদুল্লাহ, আবু রুশদ, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল মাহফুজুর রহমান, লে. জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইতিহাসবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকবৃন্দ।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:১৯:২২   ৬ বার পঠিত