![]()
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।
আজ বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) প্রেসিডেন্ট এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায়, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকার শুল্কবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে একটি প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে কার্যক্রম সহজ করতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, গত পাঁচ থেকে ছয় মাসে এ বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনগত সুবিধাগুলো আরও সহজ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিভিন্ন প্রস্তাবও সরকার পর্যালোচনা করছে। এর ফলে জ্বালানি খাতের বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বসহ সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে খাদ্যশস্য ও জ্বালানি সরবরাহ খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা জোরদারে ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্মার্ট পুলিশিংয়ের আওতায় ‘সেইফ সিটি’ প্রকল্প, সীমান্ত নিরাপত্তায় ‘ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ এবং ই-ভিসা সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অতুল কেশাপ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানিগুলো কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে তারা দেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।
বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং কর আহরণের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যাপক সহায়তা দিতে পারে এবং সরকারের অংশীদার হতে পারে, সে বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।
অতুল কেশাপের নেতৃত্বে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ১৬ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৭:৪৮ ৬ বার পঠিত