
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন মাত্রা যোগ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তরে (ডিএফএটি) বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দুইটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। এতে উভয় দেশের মধ্যে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, বাণিজ্য সুবিধা ও শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান। ডিএফএটির ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রবি কেওয়ালরাম এবং সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া ডিভিশনের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সারা স্টোরির সাথে পৃথক বৈঠকে অংশ নেয় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়-আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগদান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় শিল্প ও বাণিজ্য সহযোগিতা-নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ আরসিইপি-তে যোগদানের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ১৭০ মিলিয়ন মানুষের বিশাল বাজার নিয়ে এই যোগদান দক্ষিণ এশিয়াকে পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ানের সাথে সংযুক্ত করার সেতুবন্ধ তৈরি করবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আরসিইপি অ্যাকসেশন প্রশ্নমালা জমা দিয়েছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি, প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনকে আরসিইপি-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আরসিইপি-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইতোমধ্যে এই আবেদনের সুপারিশ করেছে এবং সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ এই বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সমর্থন কামনা করে এবং উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখায় অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানায়।
বাংলাদেশ পক্ষে একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়ে অষ্ট্রেলিয়াকে প্রস্তাব করা হলে তারা এ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে করনীয় নির্ধারণ করবে বলে জানায়। দ্বি-পক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরো গভীর করার লক্ষ্যে উভয়পক্ষ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে। বিশেষ করে, অস্ট্রেলিয়ার উৎকৃষ্ট মানের পশম ও তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশ তার বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে উচ্চ-মূল্যের পণ্য উৎপাদন করতে পারে বলে মত প্রকাশ করে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম প্রাকৃতিক তন্তুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ও গ্রিড আধুনিকীকরণে অংশীদারিত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ান টিভিইটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্মশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা এবং বিল্যাটারেল ট্রেড নেগোশিয়েশনস শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে উভয়পক্ষ আরসিইপি অ্যাকসেশন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সমন্বয় এবং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্টের (টিফা) অধীনে কার্যকরী গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপ চালানোর ব্যাপারে সম্মত হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে যে, এই উদ্যোগগুলো দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা উভয় অর্থনীতির জন্যই কল্যাণকর হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৪:০৯ ৩ বার পঠিত