শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬



আজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ ১৫ আগস্ট বেলা ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অগণিত ভক্ত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সহকর্মী, শুভাকাক্সক্ষীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। তখন তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। সেদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সে সময়ের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই সংবাদটি নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াতে হবে ভাবিনি। আমরা এবারো ভেবেছিলাম তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি ভোর ৬টায়, গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। মৃত্যুর সময় বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে ছিলেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তার। হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে গত বছর ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড তার চিকিৎসা তদারকি করেন। আগস্ট মাসের শুরুতে চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তীতে তা আর সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পেয়েছিলেন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবনের পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতিকদের জীবনে উত্থান-পতন থাকে। মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেফতার, কারাবাস, নির্যাতন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ- এসবও তাদের জীবনে অভাবনীয় নয়। বেগম খালেদা জিয়াও চরম পর্যায়ের নির্যাতন সহ্য করেছেন।

সহ্য করেছেন স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর শোক আর দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা। রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান, যিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

তাদের আদি বাড়ি ফেনীতে। তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বেগম জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন।

১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।

বাংলাদেশ সময়: ০:২০:৩৫   ৪২ বার পঠিত