
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও দুই ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) কোতোয়ালি থানায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি কোতোয়ালি থানার মামলা নম্বর-৫৬। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর আসে যে, পূর্বশত্রুতার জেরে কোতোয়ালি থানার গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় রাজা মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে এসআই মো. মাসুদ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে রাজা মিয়ার একতলা বাড়ির তিনটি জানালার থাই গ্লাস ও দুটি সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। এ সময় বাড়ির চারপাশে ভাঙা ইটের টুকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে রাজা মিয়া ও রাশেদ মোল্লা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তাদের সরকারি গাড়িতে তুলে থানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আক্কাস আলী বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০০ থেকে ৪০০ জনের একটি দল সরকারি পুলিশ গাড়ি অবরুদ্ধ করে। তারা গাড়িতে থাকা রাজা মিয়া ও রাশেদ মোল্লাকে নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।
এসআই মাসুদ আলম ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সরকারি গাড়ির চাবি নিয়ে যায় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি মারধর করা হয়। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন অভিযুক্ত সরকারি গাড়ির ভেতরে ঢুকে রাজা মিয়া ও রাশেদ মোল্লাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের চেষ্টা করে। পরে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে পুলিশ আহত রাজা মিয়া ও রাশেদ মোল্লাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও মারধর, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর, পথরোধ ও বেআইনি জনতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৪১/৩৪২/৩৫৩/৪২৭/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪০:৪৭ ২১ বার পঠিত