
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, দেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যেসব আইন, বিধি ও নীতিমালা রয়েছে, গত ১৭ বছরে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন ছিল না। ভবনের অনুমোদিত নকশায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোক ওয়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অনেক ডেভেলপার কোম্পানি তা নির্মাণ করেনি। এখন থেকে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন করা হবে। আইন ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ ও আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ আর থাকছে না। আগামীতে যেন কেউ অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রী আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ আব্দুল মতিন।
জাকারিয়া তাহের বলেন, রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সচেতন হতে হবে, আইন ভঙ্গ করে যেন কোনো ভবন বা আবাসন গড়ে না ওঠে। রাজউক ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটি শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনছে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিধিমালা সংশোধন করে রাজধানীর বাইরের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে আনা হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন। অনেক মানুষ বছরের পর বছর আগে টাকা পরিশোধ করেও তাদের কাঙ্ক্ষিত ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট বুঝে পাচ্ছেন না। আবার অনেকে কোনো কারণে চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি চালিয়ে যেতে না পারায় তাদের জমা টাকা তিন-চার বছর ধরে ফেরত পাচ্ছেন না। তাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ড. আলী আফজাল, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, ড. এমএ কাইয়ুম, মোঃ রায়হানুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম রেজাসহ উভয় সংগঠনের সদস্যবৃন্দ। সভায় রিহ্যাব এবং বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ আইন ও বিধি মেনে ভবন নির্মাণ ও আবাসন উন্নয়নের বিষয়ে তাঁদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। এ সময় তাঁরা ঢাকা মহানগর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ও ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালার বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫২:০১ ৩ বার পঠিত