![]()
দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে ফিরেছে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফেনারবাচে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁকে তাদের ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় তুর্কি ক্লাবটি।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগ ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় লিওঁর মাঠে ফেনারবাচের সামনে জয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। সেই সমীকরণ মাথায় রেখেই শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় সফরকারীরা।
২৪ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ফেনারবাচে। ওগুজ আইদিনের ক্রস থেকে ভেদাত মুরিকির হেড লিওঁর গোলরক্ষক ডমিনিক গ্রিফ প্রতিহত করলেও ফিরতি বল থেকে গোল করতে ভুল করেননি কসোভোর এই ফরোয়ার্ড।
এর মাত্র চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেনারবাচে। ম্যাসন গ্রিনউডের কর্নার থেকে পাওয়া বল হেডে জালে পাঠান ডিফেন্ডার আর্চি ব্রাউন। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তুর্কি ক্লাবটি।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে লিওঁ। ৬১ মিনিটে এইনসলে মেটল্যান্ড-নাইলসের পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন মালিক ফোফানা। এতে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২-১।
এরপর সমতা ফেরানোর দুটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লিওঁ। ৬৪ মিনিটে লুইস ওপেন্দা এবং ৭১ মিনিটে কাইল বুদাচে গোল করলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে দুটিই বাতিল হয়। ওপেন্দার গোলটি অফসাইড এবং বুদাচের গোলটি ফাউলের কারণে বাতিল করা হয়।
শেষদিকে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফেনারবাচে। দুই ম্যাচ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে জায়গা করে নেয় তারা।
ফেনারবাচে সর্বশেষ ২০০৮-০৯ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে খেলেছিল। এরপর ২০১০-১১ মৌসুমে তুরস্কের সুপার লিগ জিতলেও ম্যাচ পাতানোর অভিযোগের তদন্তের কারণে উয়েফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ক্লাবটি। এর ফলে দুই মৌসুম ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি তারা।
পরে পুনর্বিচারে ফেনারবাচে এবং ক্লাবটির সাবেক সভাপতি আজিজ ইলদিরিম অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার আবারও ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সুযোগ পেল তুরস্কের জায়ান্টরা।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:১৮:০৩ ৩ বার পঠিত