![]()
মাদক কারবারি ও চোরাচালান বন্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মাদক চোরাকারবারিরা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না।
এখন তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেটে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলার জট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা খুব আধুনিক আইন নিয়ে এসেছি। এসব মামলা সম্ভবত পুরোনো আইনে করা।
সেই আইনে ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা ছিল না। এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে মামলার সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
তিনি বলেন, ঢাকায় প্রায় ৮০ হাজার মাদকদ্রব্যের মামলা আছে। কক্সবাজারে ২০ হাজার, চট্টগ্রামে প্রায় ৩০ হাজার।
অন্যান্য শহরেও রয়েছে। আমাদের জনবল পর্যাপ্ত ছিল না। তদন্ত করার মতো সক্ষমতাও ছিল না।
মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত ঘাটতির কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাইব্যুনালের কোনো বিধান ছিল না। দু-একটি জেলা ছাড়া ল্যাবরেটরিরও কোনো সংস্থান ছিল না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আইনের মাধ্যমে খুব শক্তিশালী অধিদপ্তর করা হয়েছে। সাইবার স্পেসে মাদকদ্রব্যের বেচাকেনাসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড যাতে শনাক্ত, উদ্ধার ও মামলা করা যায়, সে জন্য প্রত্যেক জেলায় মালখানা ও হাজতখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড চালু করা হবে, সেটিও আইনে রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক চোরাকারবারিরা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো হাতিয়ার ছিল না। এখন অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মাদক চোরাচালান, অপব্যবহার ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ চিহ্নিত করে ক্ষেত্রমতো সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনবল বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। মালখানা, হাজতখানা, ট্রাইব্যুনাল, অস্ত্র, ডগ স্কোয়াডের পাশাপাশি ড্রোনও থাকবে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি তাদের সহযোগিতা করবে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তখন বিচারিক প্রক্রিয়াও সহজ হবে এবং অপরাধীদের সাজা দেওয়া সম্ভব হবে।
মামলার আধিক্যের কারণে অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জনবল ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা বাহিনী ও অধিদপ্তরকে দেওয়া হবে। তখন আশা করি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আসবে।
মব বা গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মবের বিষয়টি সাধারণ আইনের মধ্যেই আছে। এর জন্য আলাদা কোনো আইন প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, আমরা খুব সজাগ ও সচেতন আছি। বাংলাদেশে মবের যে অপসংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাকে আমরা শক্তভাবে মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, মব বা দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় বিদ্যমান আইনেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য নতুন করে আলাদা কোনো আইন করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৩:৫১ ৭ বার পঠিত