শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে ৮ সংখ্যালঘু শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি, না দিলে নির্মম পরিণতির হুমকি

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে ৮ সংখ্যালঘু শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি, না দিলে নির্মম পরিণতির হুমকি
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬



বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে ৮ সংখ্যালঘু শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি, না দিলে নির্মম পরিণতির হুমকি

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কথিত ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ জন কলেজ শিক্ষকের কাছে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করার ঘটনা ঘটেছে। চাঁদার টাকা না দিলে শিক্ষকদের নির্মম পরিণতি ভোগ ও হত্যাসহ সন্তানকে গুলির হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা হীনতায় ভুগে এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

জিডি সূত্রে জানা যায়, কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পালসহ (৫৭) দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস ও প্রদীপ কুমার সাহা—এই ৫ শিক্ষক প্রথমে জিডি করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, মোট ৮ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের শিক্ষককে একইভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে তার মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর (০১৩৩৫৭৫১৭৬৯) থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দিয়ে ‘সর্বহারা পার্টির’ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তাদের দলের কয়েকজন সহকর্মী কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের জামিনের জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন। এজন্য প্রত্যেক শিক্ষকের কাছে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে রংপুরের সংখ্যালঘু শিক্ষক পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো ‘নির্মম পরিণতির’ অপেক্ষা করতে বলা হয়।

আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষক দেবাশীষ রায়ের কাছে লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ছেলের পায়ে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয় এবং চিকিৎসায় যেভাবে টাকা খরচ হতো, সেভাবে টাকা জোগাড় করে পাঠানোর নির্দেশ দেয় চাদাবাজরা। সাবেক শিক্ষক রবীন লস্কর ভয়ে ইতোমধ্যে বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে একই ধরনের হুমকি পাওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষকরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যে নম্বরগুলো থেকে ফোন এসেছিল সেগুলোর সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নম্বরগুলোর বর্তমান লোকেশন মাদারীপুরের রাজৈর দেখাচ্ছে। এটি মূলত একটি প্রতারক চক্রের কাজ। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং দ্রুতই এই প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:০০:২৮   ২৬ বার পঠিত