শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, নাগরিক অধিকারের অংশ: মাহদী আমিন

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, নাগরিক অধিকারের অংশ: মাহদী আমিন
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬



ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, নাগরিক অধিকারের অংশ: মাহদী আমিন

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, এটি নাগরিক অধিকারের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দেশের সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শোভন কাজ ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার প্রস্তুত।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্‌স) ১০ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’-স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শ্রমিকের মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হলে তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে থাকায় তাদের অধিকার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, দেশের বহু শ্রমিক এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত। শ্রমজগতের উন্নতির জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।

মাহদী আমিন বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ও শোভন কাজের পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা, আস্থা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে মালিক-শ্রমিক ঐক্যের প্রয়োজন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিএনপির শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় শ্রমিক শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সব খাতের শ্রমিকের কারণেই দেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনে নারী নেতৃত্ব বাড়ানো, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা ও কার্যকর সামাজিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেন। মন্ডিয়াল এফএনভির পলিসি অ্যাডভাইজার রুবেন কোরেভার ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ড্যানিশ ট্রেড ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির এশিয়া অফিসের প্রধান লটে এলিগার্ড বলেন, কার্যকর সামাজিক সংলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য নিশ্চিত করা জরুরি।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জান্না ভ্যান ডার লিন্ডেন বলেন, শ্রমিকরা যখন নিজেদের ভাষায় দরকষাকষি, আলোচনা ও সংলাপে অংশ নিতে পারবেন, তখনই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিল্‌সের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঞাঁ সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য দেন বিল্‌সের মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে শ্রমিক সংগঠন, সরকার, নিয়োগকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান তথ্যকেন্দ্র ও বিল্‌স লাইব্রেরি’ উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৮:২১   ৫ বার পঠিত