![]()
ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমাধানের বিভিন্ন পথ নিয়ে ‘কয়েকটি ধারণা’ তুলে ধরেছেন। তবে এসব ধারণা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। উশাকভ বলেন, পুতিন তাদের জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘বাস্তব অগ্রগতি’ করছে এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি সংঘাতের ‘সব মূল কারণ’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই মস্কো বারবার এমন বক্তব্য দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। তবে যুদ্ধের সম্মুখসারির অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আলোচনা ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেন্দ্রিক’ ছিল। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে মস্কো সফর করা উইটকফ ও কুশনারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো তারা মস্কো সফর করলেন। বৈঠকের পরপরই তারা মস্কো ছেড়ে যান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে।
উশাকভ বলেন, ‘আলোচনাটি ইউক্রেন সংকট সমাধানের বিষয়ে শুধু মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অর্থনৈতিক বিষয় এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য বড় ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, এই আলোচনা সময়োপযোগী ও উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’
রুশ প্রেসিডেন্টের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এক্সে বৈঠকটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ শান্তি উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন পুতিন। আলোচনা শুরুর সময় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তিনি যে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন, তা বুঝতে পারছেন। তারপরও তিনি যুদ্ধের সমাধানে সহায়তা করতে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সমাধানে নিজের ভূমিকা রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি এর বিস্তারিত জানাননি।
অন্যদিকে পুতিন মার্কিন আলোচকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, মার্কিন দূতদের সফরের কারণে রুশ সামরিক বাহিনীকে তিন দিন কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন।
গত ১০ দিনে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দিন-রাত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে মস্কোকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার অংশ হিসেবে ইউক্রেন গ্রীষ্মজুড়ে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা চালিয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, সোমবার পর্যন্ত মস্কোতে হামলা না চালাতে প্রস্তুত কিয়েভ।
তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ।
ট্রাম্পের দূতদের মস্কো সফরের খবর প্রকাশের আগে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেছিলেন, পুতিন এখনো ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। তার দাবি, রুশ কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
তবে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রগতির কারণে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। ইউক্রেন বলেছে, ব্যাপক মূল্য দিয়ে যে ভূখণ্ড তারা সফলভাবে রক্ষা করেছে, তা ছেড়ে দিতে তারা রাজি নয়। এমন শর্তকে তারা আত্মসমর্পণের সমতুল্য মনে করে।
গত শুক্রবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই বছর আগে দেয়া এক ভাষণে পুতিন যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, তা থেকে তারা সরে আসেনি। ওই অবস্থান অনুযায়ী, রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। ক্রেমলিন বলেছে, এই অবস্থান ‘অপরিবর্তনীয়’।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০১:২৮ ৪ বার পঠিত