বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঙ্গী বারবার দোষ চাপালে কীভাবে সামলাবেন

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সঙ্গী বারবার দোষ চাপালে কীভাবে সামলাবেন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬



সঙ্গী বারবার দোষ চাপালে কীভাবে সামলাবেন

ভুল করেও যদি সঙ্গী সব দোষ আপনার ওপর চাপিয়ে দেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি ‘ব্লেইম-শিফটার’ হতে পারেন।

সংসার বা সম্পর্কের চেনা সমীকরণে কোনো ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলেই কি সঙ্গী চট করে সব দায় আপনার ওপর চাপিয়ে দেন?

সম্পর্কে ছোটখাটো ভুল হতেই পারে। কিন্তু নিজের ভুল স্বীকার না করে প্রতিবারই সঙ্গীর ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতাকে শুধু স্বভাবের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, নিজের ভুল বা ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এই আচরণকে বলা হয় ‘ব্লেইম-শিফটিং’। আর যাঁরা নিয়মিত এমন আচরণ করেন, তাঁদের বলা হয় ‘ব্লেইম-শিফটার’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মানুষের সঙ্গে প্রতিটি ঘটনায় কে ঠিক আর কে ভুল, তা নিয়ে তর্কে জড়ালে সম্পর্কের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ পাল্টা যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে গেলে তাঁরা অনেক সময় সেটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নিতে পারেন। ফলে তাঁদের আত্মরক্ষামূলক আচরণ আরও তীব্র হয় এবং ঝগড়া নতুন মাত্রায় গড়ায়।

কেন অন্যের ওপর দোষ চাপান তাঁরা?

যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই স্কুল অব মেডিসিনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ও মনোবিজ্ঞানী ডা. ড্যানিয়েল এস. লোবেলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানসিকভাবে সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ সহজেই নিজের ভুল বা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে পারেন। কিন্তু ব্লেইম-শিফটারদের ভেতরের মানসিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে ভঙ্গুর হতে পারে।

নিজের ভুল প্রকাশ পেলে তাঁদের মধ্যে অপরাধবোধ কিংবা অরক্ষিত বা দুর্বল হয়ে পড়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। সেই অস্বস্তি এড়াতে তাঁরা আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের ভুল ধরিয়ে দিতে গেলে তাঁরা উল্টো আরও বেশি আত্মরক্ষামূলক হয়ে উঠতে পারেন।

তর্ক নয়, মনোযোগ ঘোরানো

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সঙ্গী যখন অযৌক্তিকভাবে দোষারোপ করছেন, তখন সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে শতভাগ নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা না করে আলোচনার দিক পরিবর্তন করা যেতে পারে।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘রিডাইরেকশন মেথড’। অর্থাৎ, ‘কার ভুল’—এই প্রশ্নে আটকে না থেকে আলোচনাকে ‘এখন কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়’—সেদিকে নিয়ে যাওয়া।

যেমন, রান্না পুড়ে যাওয়ার পর সঙ্গী যদি আপনার ওপর দোষ চাপান, তখন পাল্টা তর্কে না গিয়ে বলা যেতে পারে, ‘ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই। চলো আজ বাইরে খেয়ে আসি।’ এতে দোষারোপের তর্কে না জড়িয়ে সরাসরি সমাধানের দিকে যাওয়া সম্ভব হয়।

‘কে জিতল’ নয়, সমাধান কী?

ব্লেইম-শিফটারদের সঙ্গে তর্কে অনেক সময় অবচেতনভাবে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়। সেখানে একজন নিজেকে নির্দোষ এবং অন্যজনকে ভুল প্রমাণ করতে চান।

এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে যৌথভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। বলা যেতে পারে, ‘ভুলটা আমাদের দুজনের সমস্যা, আমরা একসঙ্গেই এর সমাধান করব।’

এতে সম্পর্কে ‘আমি বনাম তুমি’ মানসিকতার পরিবর্তে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর

তবে সব দায়িত্ব একজন সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের দোষারোপের অভ্যাস সহজে বদলায় না। নিয়মিত এমন আচরণের শিকার হলে অন্য পক্ষের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে দোষারোপের সঙ্গে নিয়মিত অপমান, হেয় করা, ভয় দেখানো বা মানসিক নির্যাতন যুক্ত থাকলে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়।

এমন পরিস্থিতিতে শুধু তর্ক এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে পেশাদার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। একজন নিবন্ধিত মনোবিজ্ঞানী বা রিলেশনশিপ থেরাপিস্টের পরামর্শ সম্পর্কের সমস্যার ধরন বুঝতে এবং তা স্বাস্থ্যকরভাবে মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।

অর্থাৎ, প্রতিটি তর্কে জয়ী হওয়াই সম্পর্ক বাঁচানোর পথ নয়। কখনো কখনো ‘কে দোষী’ প্রশ্নটি সরিয়ে ‘সমাধান কী’—এই প্রশ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়াই সম্পর্ককে সুস্থ রাখার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৭:৩১   ২ বার পঠিত