![]()
সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জনগণেরও ক্ষমতা দেখানোর ইতিহাস তো বাংলাদেশে আছে। সেটাকেও স্মরণ রাখতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে সরকার প্রত্যাখ্যান করতে পারে, দেশের ইতিহাসে এমন নজির নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আইন বদলে হেবা আইনের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছে সরকার। সব জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই অনেকে ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী চরিত্র অর্জন করেছে—সরকারকে এ শিক্ষা নিতে হবে। সরকার যেন এ পথ থেকে ফিরে আসে।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস পার হয়েছে। জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে এখন দেশ যেভাবে চলছে, সেভাবে চলতে থাকলে দেশে দারুণ সংকট তৈরি হবে। তখন কিছু করার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতি যাতে ক্ষমতাসীন দলকে সংবিধান সংস্কারের পথে আসার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, সেই অনুরোধ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংবিধান সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানান।
সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১১–দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রংপুরমুখী লংমার্চের বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১–দলীয় ঐক্য ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করবে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে। এই উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল আটটা পর্যন্ত। এরপর সকাল ৯টায় গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে, সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বিকেল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও বিকেল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভা হবে। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।
আগের ৭ দফার সঙ্গে নতুন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে বলে জানান জামায়াত সেক্রেটারি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৩৯:২০ ৯ বার পঠিত