
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর আইয়ুব হোসেন (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁও থানার সোনাপুর জালালাবাদ ঔষধ ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত ভাঙ্গারি গোডাউনের পূর্ব পাশের ডোবা থেকে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোসাঃ মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ সার্কেল) জনাব দিপংকর ঘোষের দিকনির্দেশনায় সোনারগাঁও থানার একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও টাকার লোভ দেখিয়ে সহযোগী শাহীনকে ব্যবহার করে আইয়ুব হোসেনকে ভাঙ্গারি দোকানে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
১. মোঃ শাহিনুর ইসলাম (৩০), পিতা: মোঃ মানিক মিয়া, সাং: মাস্টারপাড়া, থানা: নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম; বর্তমান ঠিকানা: কাঁচপুর উত্তরপাড়া (আলতু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
২. মোঃ জামির হোসেন (৫৭), পিতা: মৃত ছাহাদ আলী, সাং: কাঁচপুর উত্তরপাড়া, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।
গ্রেফতারকৃত আসামি শাহিনুর ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২২:২৪ ২ বার পঠিত