‘মায়ের তরী’ পরিদর্শনে বিমোহিত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » ‘মায়ের তরী’ পরিদর্শনে বিমোহিত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬



‘মায়ের তরী’ পরিদর্শনে বিমোহিত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত

বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি প্রাণবন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ লালন, বাউল, মুর্শিদি কিংবা পল্লিগীতি। এ ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতায় দেশের উত্তারাঞ্চলীয় জেলা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তিস্তা পাড়ের ডেওডোবা গ্রামে শিশুদের গানের টানে এলেন বাংলাদেশে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। তিস্তা পাড়ের এ গ্রামে বাড়ির উঠানে তখন শিশুদের গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালিম চলছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন দেওডোবা গ্রামে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘মায়ের তরী’ পরিদর্শন করেন। এ সময় শিশুদের কণ্ঠে গাওয়া গান ও বাজানো বাদ্যযন্ত্রের সুরে বিমোহিত হন তিনি। বিশেষ করে একতারা, দোতারা, সারিন্দা, বেহালা ও বাঁশির সুরে তিনি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। শিশুদের লোকসংগীত চর্চা, লোকবাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণ এবং সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। দীর্ঘ এক দশক ধরে ‘মায়ের তরী’ নীরবে যে কাজ করে যাচ্ছে, তা দেশের লোকসংস্কৃতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তিনি বলেন, লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু একটি দেশের অতীতকে ধারণ করে না, মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরিরও শক্তিশালী মাধ্যম। ‘মায়ের তরী’র মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্য, লোকগান ও লোকবাদ্যযন্ত্রের ধারাগুলোও পৌঁছে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে।

‘মায়ের তরী’র নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ গণমাধ্যম’কে বলেন, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় বর্তমানে সংগঠনটির উদ্যোগে ৯টি ‘গুরুগৃহ’ পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি লোকবাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ১২৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রতি মাসে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘তরী’র একটি বিশেষ ক্লাসও পরিচালিত হয়। এসব গুরুগৃহে পাঁচ শতাধিক শিশু বাংলা লোকগান শিখছে।

‘মায়ের তরী’ পরিচালিত ডেওডোবা গ্রামে গুরুগৃহের গুরু লিপি দেবনাথ গণমাধ্যম’কে বলেন, কার্যক্রমটির বড় সীমাবদ্ধতা অর্থ ও সংরক্ষণ-সুবিধার অভাব। একটি আধুনিক স্টুডিও তৈরি করা গেলে প্রবীণ লোকশিল্পী ও শিশুশিল্পীদের গান-বাদ্য নিয়মিত রেকর্ড করে ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে লিখিতভাবে সংরক্ষিত নয়-এমন বহু গান ও সুরও হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

‘মায়ের তরী’র সংগঠক ইউসুফ আলমগীর গণমাধ্যম’কে বলেন, ‘লোকসংগীত চর্চার মাধ্যমে শিশুদের আত্মশুদ্ধি ও জীবনবোধের বিকাশ’ এ চিন্তাকে ধারণ করেই কাজ করছে সংগঠনটি।

তিনি বলেন, ‘সীমিত সামর্থ্য, স্বেচ্ছাশ্রম আর ভালোবাসার ওপর ভর করেই এক দশক ধরে এগিয়ে চলছে ‘মায়ের তরী’। বড় কোনো অবকাঠামো নেই, নেই পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সুবিধাও। তবু গ্রামে গ্রামে বাড়ির উঠানে উঠানে থামেনি গান।’

‘মায়ের তরী’র গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নরওয়ের নাগরিক লেখক, লোকগবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি মিস উয়েরা সেথের নাম।

তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন ১৯৯৮ সালে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদেরবুকে দক্ষিণ নামাজের চর এলাকায় বন্যা-পরবর্তী মানুষের জীবন দেখতে গিয়ে চরের নারীদের কণ্ঠে মারফতি ও মুর্শিদি গান শুনে মুগ্ধ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে বাংলার লোকগানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে স্থানীয় শিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মায়ের তরী’। বাংলার লোকসংস্কৃতির প্রতি তার অনুরাগের আরেকটি দৃষ্টান্তÑলালনের ৫৩টি গান নরওয়েজিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে বই প্রকাশ।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সফরসঙ্গী ছিলেন ডেপুটি হেড অব মিশন আলেতজান্ডা ফাল্ক বাইডেন, প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম, স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মিজানুর রহমান ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার চন্দন কুমার সরকার।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৯:৩৪   ৬১ বার পঠিত  




ছবি গ্যালারী’র আরও খবর


ইতিহাসের এই দিনে
আল কোরআন ও আল হাদিস
আলফাডাঙ্গা হাসপাতালে রোগীদের জন্য সাবেক এমপি নাসিরের পক্ষ থেকে ১৫ ফ্যান উপহার
বিমানবন্দরে হুতি হামলার জবাবে ‘কঠোর পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি সৌদি মন্ত্রীর
ফিরছে ‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’, বিদ্যা বালান কি থাকছেন নতুন সিনেমায়?
এইচএসসি ও সমমানের ফল ২৯ অক্টোবর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগে চিকিৎসা সেবা গড়ে তোলার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
বুড়িগঙ্গা তীরের ইসলামবাগ থেকে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে কমিউনিটি ব্যাংকের অনুদান
দুর্গোৎসবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: এসপি হাবিব

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ