![]()
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বন বিভাগের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন ছাড়াই অন্তত ৮০টি করাতকল (স’মিল) বছরের পর বছর পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে কেবল ট্রেড বা শিল্প লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হলেও বন অধিদপ্তরের আইনকে পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে এসব ব্যবসা। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধভাবে কাটা গাছের বাণিজ্য বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার এসব করাতকল সরকারি রেলওয়ের জমি, ব্যক্তি মালিকানাধীন কিংবা ভাড়া নেওয়া জায়গায় বসানো হয়েছে। ‘করাত-কল (লাইসেন্স) বিধিমালা, ২০১২’ অনুযায়ী স’মিল চালুর পূর্বে নির্ধারিত আবেদন ফরম, জমির মালিকানা, ম্যাপ, লাইসেন্স ফি এবং ক্ষেত্রবিশেষে পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ বন বিভাগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক। বিধিমালা অনুযায়ী, পৌর এলাকা ব্যতীত সরকারি বনাঞ্চলের সীমানা থেকে ন্যূনতম ১০ কিলোমিটার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ সরিষাবাড়ীতে এসব কোনো শর্তই মানা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের তদারকি ও বৈধ রেজিস্ট্রার না থাকায় সরকারি রাস্তার গাছ কেটে একটি অসাধু চক্র এসব মিলের মাধ্যমে সহজেই বিক্রি করে দিচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাঠ ভাঙানোর পর অবশিষ্টাংশ বা লাকড়ি নিতে ঘনফুট (সেফটি) প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ আব্দুল বারী ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম জানান,উপজেলায় প্রায় ৮০টি স’মিল রয়েছে। তার মধ্যে বেশিরভাগই লাইসেন্স নেই। সরকার যদি লাইসেন্স বিধিমালার শর্তসমূহ কিছুটা শিথিল করেন, তবেই মালিকদের লাইসেন্স করাটা সহজ হবে বলে দাবি জানান তারা। করাতকল মালিকেরা প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের কথা বলে প্রশাসনের নামে তাদের অতিরিক্ত চাঁদা দিতে হয়।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ স’মিল মালিকদের লাইসেন্স নেওয়ার তাগাদা দেওয়া হলেও তারা তা আমলে নিচ্ছেন না। বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অবৈধ স’মিলগুলোর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন করা হয়েছে, অনুমতি পেলেই দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শুধু ট্রেড লাইসেন্স বা জমির কাগজপত্র নয়—অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, পরিবেশগত অনুমোদন ও কাঠের বৈধ উৎস নিশ্চিত করাই জরুরি। বিধিমালার আওতায় এনে স’মিলগুলোকে যেমন আইনি সুযোগ দেওয়া উচিত, তেমনি নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ ও সরকারি রাজস্বের মারাত্মক ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫০:৪৪ ৩৫ বার পঠিত