শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ : ড. তিতুমীর

প্রথম পাতা » ছবি গ্যালারী » সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ : ড. তিতুমীর
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬



সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ : ড. তিতুমীর

বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন।

‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক সম্মেলনে এশিয়ায় বৈষম্য কমানো এবং সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার আগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।

‘অর্থনৈতিক সমতা অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে ড. তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, করোনা মহামারি এবং আগের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়ে দিয়েছিল। তার উপস্থাপনায় উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন।

সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কর্মসূচিতে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অনেকে বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পান। ফলে যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের কাছে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, সামাজিক সুরক্ষাকে শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের বিপুল শ্রমশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর্মসংস্থানের এ দুটি অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার এবং মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো দারিদ্র্য বিমোচনকে আরও টেকসই করতে পারে।

সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিতুমীর। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরকারি অর্থ সরাসরি নারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি অর্থপ্রদানের এ ব্যবস্থাকে ‘জিটুপি’ বলা হয়।

তার উপস্থাপনায় উদ্ধৃত প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছাতে পারে। ফলে দেশের দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা। এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো যোগ্য কৃষকদের নগদ প্রণোদনা দেওয়া এবং কৃষিসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো। উপস্থাপনায় উদ্ধৃত অর্থনৈতিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ কর্মসূচির ফলে প্রচলিত পরিস্থিতির তুলনায় কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০ দশমিক ৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের সম্পর্কও তুলে ধরেন ড. তিতুমীর। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের প্রস্তাবিত কর্মসূচি এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করেন।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক অগ্রগতি ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

প্রথম প্রস্তাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের একটি বিশেষ বহুপক্ষীয় তারল্য-সহায়তা তহবিল গঠনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় খাদ্য ও সারের সরবরাহ নিশ্চিতে চালানের বিপরীতে গ্যারান্টি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন।

তৃতীয় প্রস্তাবে বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকটের সময় দেশগুলোর ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা বহিঃস্থ সংকটে পড়া দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ সামলে জরুরি জনসেবা ও উন্নয়ন ব্যয় অব্যাহত রাখার সুযোগ দেবে।

চতুর্থ প্রস্তাবে উন্নত দেশগুলোর অব্যবহৃত বিশেষ উত্তোলন অধিকার (এসডিআর) আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পুনর্বণ্টনের ওপর জোর দেন তিনি। পঞ্চম প্রস্তাবে জলবায়ু অর্থায়নে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের সম্পদ বণ্টনে ভারসাম্য আনা এবং কার্বন বাজারের কার্যকারিতা বাড়ানোর কথা বলেন।
ষষ্ঠ প্রস্তাবে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ও আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি জোরদারের আহ্বান জানান ড. তিতুমীর। তার মতে, এর মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

সম্মেলনে অক্সফামের ‘জন্ম থেকেই কারসাজির শিকার: এশিয়ায় বৈষম্য কীভাবে ভবিষ্যৎ কেড়ে নেয় এবং কোন পাঁচটি সরকারি সেবা তা বদলাতে পারে’ শীর্ষক নীতিপত্রের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। এতে এশিয়ায় আয় ও সম্পদ বৈষম্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

নীতিপত্রে উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতে জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত। বিপরীতে, সবচেয়ে দরিদ্র অর্ধেক মানুষের আয় জাতীয় আয়ের মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।

এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে এশিয়ার শত কোটিপতিদের মোট সম্পদ এক দশকে ১২০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে এ অঞ্চলে সম্পদবৈষম্য পরিমাপের গিনি সহগ বেড়ে শূন্য দশমিক ৭২ হয়েছে।

নীতিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের কারণে ২৫ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। উন্নয়নশীল এশিয়ার ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন অথবা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছেন, যা এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও সামাজিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর পথে বড় বাধা হিসেবে উঠে আসে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২১০ কোটির বেশি মানুষ এমন দেশগুলোতে বসবাস করেন, যেখানে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতের যেকোনো একটির ব্যয়ের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়।

এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ২০২২ সালে ৪৪ হাজার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। সম্মেলনে উপস্থাপিত নীতিপত্রে সতর্ক করা হয়, রাজস্ব ব্যয় সংকোচনের নীতি সরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক খাতের ব্যয় সীমিত করে দিতে পারে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামাজিক সুরক্ষার ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, এ অঞ্চলের আনুমানিক ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ২১০ কোটি, কোনো ধরনের সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় নেই।

এ অঞ্চলের ৩৭টি অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় গড় কর-রাজস্বের অনুপাত ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্য দেশগুলোতে এ হার ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

অক্সফামের নীতিপত্রে প্রাক্কলন করা হয়েছে, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদের ওপর বছরে ২ থেকে ৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হলে ৭৯ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে। এ অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য সরকারি সেবা সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থ জোগাতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল বৈষম্যও সম্মেলনে আলোচনায় আসে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে এশিয়ার আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় ৩৩ কোটি নারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

নারীদের অবৈতনিক পরিচর্যা ও গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যে আরও বলা হয়, নারীদের ওপর অসমভাবে চাপিয়ে দেওয়া এ ধরনের কাজের বোঝা কমানো গেলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুফল সৃষ্টি হতে পারে।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের অধ্যাপক কেট পিকেট। তার বক্তব্যের বিষয় ছিল ‘বৈষম্যের সংকট: বৈশ্বিক প্রমাণ, এশিয়ার বাস্তবতা এবং সরকারগুলোর করণীয়’।

‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সমতাভিত্তিক সমাজের ভিত্তি’ শীর্ষক প্রথম অধিবেশনে অংশ নেন থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সোমসাক চুনহারাস এবং শ্রীলঙ্কার গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক মন্ত্রী ড. উপালি পান্নালিগে।

‘সমতার অবকাঠামো গড়ে তোলা: সামাজিক সুরক্ষা, পরিচর্যা ও ডিজিটাল সরকারি সেবা’ শীর্ষক দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেন লাও উইমেনস ইউনিয়নের ড. নিনপাসেউথ জাইয়াফোনেসি এবং থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনইএসডিসি) ড. সুফান্নাদা লোওয়াচাই।

সমতার অর্থায়ন ও সরকারি সেবার জন্য সম্পদ আহরণবিষয়ক তৃতীয় অধিবেশনে ড. তিতুমীরের পাশাপাশি বক্তব্য দেন ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ডেভিড ম্যাককয় এবং ফিলিপাইনের প্রতিনিধি জুড অ্যাসিডরে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক নোপফল উইটভোরাপং, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জন স্যামুয়েল এবং অক্সফাম এশিয়ার অ্যাডভোকেসি ও প্রচারাভিযান বিভাগের প্রধান মুস্তাফা তালপুর।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:০৮:৩১   ১৩ বার পঠিত