
জামালপুর প্রতিনিধি: গ্যাস সংকটের কারণে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন যমুনা সার কারখানা (জেএফসিএল) থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রত্যাহার করে নিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে।
গ্যাস বন্ধের বিষ বিষয়টি যৌথভাবে নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক এবং তিতাস গ্যাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র টেকনিশিয়ান দুলাল মিয়া।
কারখানা ও তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, স্বাভাবিক ও পূর্ণমাত্রায় ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য যমুনা সার কারখানায় দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়, আর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গ্যাসের চাপ ৪৬ এমএমসিএফ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনায় রোববার ভোরে গ্যাস সরবরাহ প্রত্যাহার করা হয়, যার ফলে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
কারখানার একাধিক সূত্রে প্রকাশ, গ্যাস পাওয়ার পর সম্প্রতি সার উৎপাদনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার গ্যাস পুড়লেও সার উৎপাদিত হয়েছে মাত্র প্রায় ১৫ কোটি টাকার, যা আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান ”আজ ২৫ অক্টোবর রোববার ভোর ৫ টায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী ডিসেম্বরে আবারও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
উল্লেখ্য, যমুনা সার কারখানাটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এখানকার উৎপাদিত সারের গুণগত মান ভালো হওয়ায় কৃষকদের কাছে এর চাহিদা অনেক বেশি। এখান থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক নির্মিত এই কারখানার নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ২৫ বছর, যা ২০১৫ সালে শেষ হয়েছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত গ্যাসের চাপ পেলে এটি দৈনিক ১২০০ থেকে ১৫০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম (যেখানে দৈনিক সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ১,০৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া)।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২১ সেপ্টেম্বর সার কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ করা হলে এবং প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে এটি উৎপাদনে ফেরে। কিন্তু নতুন করে গ্যাস প্রত্যাহার করায় কারখানাটি আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। গ্যাস সরবরাহের অজুহাতে বারবার উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকরা সার সংকটের মারাত্মক আশঙ্কা করছেন। অনতিবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ সচল রেখে কারখানাটি চালু রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৭:২৩ ৮ বার পঠিত