![]()
সার সংগ্রহ, মজুদ ও বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর গাবতলীতে ছয় হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি সার গুদাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনের সময় কৃষক সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
এ কারণে সার সংগ্রহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয়, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, শুধু গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ রাখলেই চলবে না, তা যথাসময়ে কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি সার মজুদ ও বিতরণের হিসাব নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) প্রায় ২০০টি গুদামে প্রতিদিন সার প্রবেশ ও সরবরাহের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এর মাধ্যমে মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দেশে ফসলের বৈচিত্র্য ও উৎপাদন মৌসুম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সার একটি ভর্তুকিনির্ভর কৃষি উপকরণ। তাই সরকারি ভর্তুকির যথাযথ ব্যবহার এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।
মাটির স্বাস্থ্য ও সুষম সার ব্যবহারের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত মাটি পরীক্ষা না করে এবং মাটির উর্বরতা বিবেচনায় না নিয়ে সার ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। মাটির অম্লতা স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরিয়ে আনতে সরকার দেশব্যাপী মাটি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে।
তিনি জানান, মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী সার ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সারের চাহিদা কমবে। একই সঙ্গে কম সার প্রয়োগ করেও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।
বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ ও সার পৌঁছে দিতে হবে। সততা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থ, দেশের প্রয়োজন এবং আগামী প্রজন্মের কল্যাণে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।
এর আগে কৃষিমন্ত্রী নতুন সার গুদামের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪০:২২ ১১ বার পঠিত #বিএডিসি #মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ #সার গুদাম #সার ব্যবস্থাপনা