বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্র ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করেছে : রিজভী

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » ৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্র ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করেছে : রিজভী
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬



৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্র ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করেছে : রিজভী

৭ই নভেম্বরের চেতনা দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ নিশ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার সঙ্কুচিত করা হয়েছিল। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরীর আলমাস সিনেমার সামনে থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সাধারণ মানুষ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে রাজপথে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশে যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই ছাত্র-জনতা ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পেছনেও এই চেতনা কাজ করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, মানুষ এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, নিজের মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং পছন্দের রাজনৈতিক দল করতে পারবে। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কাউকে গুম, খুন কিংবা রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার মতো পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না জনগণ।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দরিদ্র, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যখন উৎপাদন ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আশ্বাস দিয়েছে। প্রকৃত শ্রমিকদের অনেকেই আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু একটি মহল আন্দোলনকে উসকে দিয়ে শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনার অনুসারীরা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্নভাবে উসকানি দিচ্ছেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:০৫   ৬ বার পঠিত