![]()
কালকিনি প্রতিনিধি: যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা আর ইটপাথরের কংক্রিট জঙ্গলে যখন সবুজ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে এক ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় উদ্যোগ নিয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল হাওলাদার। তাঁর বাড়ির ছাদে গড়ে ওঠা বর্ণিল ও সুশোভিত ফল-ফুলের বাগানটি এখন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে মো. কামাল হাওলাদারের বিশেষ আমন্ত্রণে একদল শিক্ষক ও স্থানীয় সাংবাদিক ঝাউতলার এই নান্দনিক ছাদ বাগান পরিদর্শন করেন। বাগানটিতে পা রাখতেই চোখে পড়ে সারি সারি মৌসুমী ফল, নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল এবং দুর্লভ ঔষধি উদ্ভিদের এক অপরূপ সমাহার।
পরিদর্শনকালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিক্ষক ও সংবাদকর্মীরা পুরো ছাদ ঘুরে দেখেন এবং বাগান তৈরির পেছনের গল্প ও সঠিক পরিচর্যার কৌশল সম্পর্কে কামাল হাওলাদারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ছাদের প্রতিটি কোণে গাছের নিখুঁত বিন্যাস, নিবিড় যত্ন এবং সবুজের সমারোহ দেখে অতিথিরা মুগ্ধ হন।
পরিদর্শন শেষে বাগানটির প্রশংসায় সহকারী প্রধান শিক্ষক মিলন রায় চৌধুরী বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কামাল হাওলাদার ভাইয়ের এমন নান্দনিক ছাদ বাগান এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইটপাথরের এই শহরে এমন সবুজ বাগান আমাদের মনকে যেমন প্রফুল্ল করে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এটি বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিটি পরিবারে যদি এমন ছোটখাটো সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া যায়, তবে পুরো সমাজেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
ছাদ বাগানের সার্বিক পরিবেশ দেখে সহযোগী অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, “প্রকৃতির সান্নিধ্যই মানুষকে মানসিক শান্তি দিতে পারে। কামাল হাওলাদার নিজের উদ্যোগে যে মনোরম বাগান তৈরি করেছেন, তা এক কথায় চমৎকার। জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরায়ণের প্রভাবে যখন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন সবুজায়ন সত্যিই প্রশংসনীয়। এলাকার অন্য ভবন মালিকদেরও উচিত ফাঁকা ছাদগুলো ফেলে না রেখে এ ধরনের ফল-ফুলের বাগান গড়ে তোলা।”
উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাগান মালিক মো. কামাল হাওলাদার বলেন, “সবুজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। শিক্ষক ও সাংবাদিক ভাইয়েরা আজ আমার ছাদ বাগান পরিদর্শনে এসে যে উৎসাহ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তাতে আমার পরিশ্রম সার্থক মনে হচ্ছে। তাদের এই অনুভূতি ও পরামর্শ আমাকে বাগানটি আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
পরিদর্শন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কামাল হাওলাদারের এই উদ্যোগ কালকিনি পৌরসভার অন্যান্য অধিবাসীদেরও ছাদ বাগানে উৎসাহিত করবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৭:২৬ ৩১ বার পঠিত