![]()
জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পারিবারিক জমির মালিকানা, দখল ও নামজারিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ তিন কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্যক্তিগত জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বিবাদী করায় স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার আরজি ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রেহান আলীর কাছ থেকে একই গ্রামের অক্কর আলী জয়নগর মৌজার ৫৯৮ দাগে ১৭ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে রেহান আলী ওই দাগের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিমের কাছেও বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম তথ্য গোপন করে ওই ভূমির নামে নামজারি বা জমা খারিজ করে নেন। পরবর্তীতে অপর ক্রয়সূত্রের ভূমিমালিক আবু বক্কর সিদ্দিক নিজের জমির জমা খারিজ করতে গিয়ে দেখেন যে ওই ভূমি ইতিমধ্যে আব্দুল হাকিমের নামে নামজারি হয়ে গেছে। এরপর তিনি নামজারি ও জমা খারিজ আংশিক সংশোধন ও বাতিলের জন্য আবেদন করেন। গত ২৮ অক্টোবর উভয় পক্ষের শুনানির ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল হাকিমের জমা খারিজ বাতিল করে ৫৯৮ দাগের ভূমি মূল খতিয়ানে ফেরতের আদেশ দেন।
এই আদেশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ভূমি ক্রেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে সরিষাবাড়ীর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণার একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ব্যক্তিগত পারিবারিক জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি সরিষাবাড়ীর ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার নথিপত্র ঘেঁটে আরও জানা যায়, একই উপজেলার জয়নগর গ্রামের কুব্বাত আলীর নিকট থেকে কদ্দুস মণ্ডল জয়নগর মৌজার ২৮ শতাংশের কাতে ১৪ শতাংশের ভূমি ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আব্দুল কদ্দুসের তিন ছেলে (আব্দুল হাকিম, আব্দুস ছোবহান ও শাহজাহান আলী) এবং দুই বোনকে (খোদেজা ও আছিয়া) রেখে মারা যান। ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে প্রাপ্ত অংশের আব্দুস ছোবহান ও তার বোন আছিয়ার কাছ থেকে ক্রয়কৃত ৪.৭৬ শতাংশ জমি খারিজ করা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি বর্তমানে জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন আব্দুল হাকিম। সেখানে গাছ কাটতে গেলে আব্দুল হাকিমের ছোট ভাই আব্দুস ছোবহান ও তাঁর পরিবারকে বাধা, মারধর এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে একই জমি নিয়ে থানায় দেওয়া একটি অভিযোগপত্রেও ভাইদের মধ্যকার বিরোধ, গাছ কাটা এবং হুমকির বিষয় উঠে আসে। অর্থাৎ, মূলত আপন ভাইদের মধ্যকার জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধই এই পুরো জটিলতার কেন্দ্রবিন্দু।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের দায় কেন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর বর্তাবে এবং তাদের মামলার বিবাদী করা কতটুকু যৌক্তিক—তা নিয়ে এখন সরিষাবাড়ীর স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ সময়: ২২:১৮:০২ ৩৩ বার পঠিত