![]()
নাটকীয়তার পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল কালাম। তিনি তিনবারের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম।
জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রে তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি তাকে দেওয়া হয়েছে। এরপর দল থেকে তাদের প্রতীক দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম কে বলেন, দল থেকে আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আমি দলের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
দলের দুই জন প্রার্থীর পর আপনার নাম ঘোষণা করা হয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল প্রাথমিকভাবে অনেকের নাম ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু দল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণার বিষয়ে আগেই বলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রাথমিকভাবে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করে। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এরপর থেকে ভোট চেয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে আসছিলেন তিনি।
তবে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও বিএনপি নেতা আবু জাফর বাবুল। প্রথম থেকে তারা সবাই মাসুদুজ্জামানের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে একাট্টা হয়ে এক টেবিলে বসেন এই চার মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে তারা সবাই একসঙ্গে বসে সংবাদ সম্মেলন করে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি করেন।
তাদের দাবি, ‘বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৃণমূলসহ অনেকেই নির্যাতিত হয়েছে। এসব তৃণমূলকে মূল্যায়িত করা হয়নি। তাই এ মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি তোলেন তারা। তাদের মধ্য থেকে যেকোনও একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তারা সবাই এক হয়ে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।’
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা বিভিন্ন সময় মাসুদুজ্জামানের বিরোধিতা করে নানা বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে এই ঘটনার কিছু দিন পর নাটকীয়ভাবে বলয় পরিবর্তন করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের পক্ষে কাজ শুরু করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ওই সময় তিনি মাসুদুজ্জামানের সভা-সমাবেশে ও নির্বাচনি প্রচারণায় বেশ ঘটা করে চালিয়েছেন। অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত বাকি তিন জনের বিরোধপূর্ণ বক্তব্য অব্যাহত ছিল।
এসব ঘটনার মধ্যে আকস্মিকভাবে গত ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তা ইস্যু ও পারিবারিক চাপের কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
তবে এই ঘটনার পর থেকে মাসুদুজ্জামান বলয়ের নেতাকর্মী, অনুসারী ও সমর্থকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে তার সিদ্ধান্ত বদলের দাবি জানিয়ে আসছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত বদল না করলে মাসুদুজ্জামানের বাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর ফলশ্রুতিতে গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে সিদ্ধান্ত বদল করে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
এদিকে এই ঘটনার মাত্র একদিনের ব্যবধানে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন জেলা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অন্যদিকে মাসুদুজ্জামান মাসুদ এই আসনে এখনও নিজেকে বিএনপির প্রার্থী বলে দাবি করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় কিছু দিন ধরে এই দুজন প্রার্থী বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:০০:২১ ৮৩ বার পঠিত