![]()
কথায় আছে ‘অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’, আর এই কথাটাকেই সত্য প্রমাণ করেছে রংপুর রাইডার্স। নিলাম ও সরাসরি চুক্তিতে একের পর এক তারকাকে দলে ভিড়িয়ে চমক দেখিয়েছিল তারা। শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভাবা হচ্ছিল তাদের, কিন্তু মাঠে নিজেদের সেরা দিতে পারেননি লিটন-মোস্তাফিজরা। এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেটে কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে উত্তরবঙ্গের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
সেই সঙ্গে বিপিএলে ফাইনাল খেলার অপেক্ষা বাড়লো রংপুরের। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত ফাইনাল খেলতে পারেননি তারা। অন্যদিকে শেষ বলে ছক্কা মেরে সিলেটকে সেমিতে তুলেছেন ক্রিস ওকস।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হাইভোল্টেজ ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের বোলিং তোপে ২০ ওভারে মাত্র ১১১ রান তোলে রংপুর। জবাব দিতে ৩ উইকেট হাতে থাকতেই জয়ে তুলে নিয়েছে সিলেট।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ২ রানেই তৌফিক খানকে হারিয়ে ফেলে সিলেট। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ১২ বলে ১৮ রান করে দলের হাল ধরে রাখলেও তার বিদায়ে আবারো খেই হারায় সিলেট। আরিফুল ইসলাম ১৮ বলে ১৭ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ৯ বলে ৩ রান করে সাজঘরে ফিরলে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মিরাজ ও বিদেশি ক্রিকেটার স্যাম বিলিংস।
দুজনের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে পা বাড়ায় সিলেট টাইটান্স। তবে রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের জন্য ধুঁকতে হয়েছে মিরাজ-বিলিংসদের। ২৩ বলে ১৮ রান করে মিরাজ বিদায় নিলে আবারো সিলেট চাপে পড়ে। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান।
১৯তম ওভারে এসেই ৪০ বলে ২৯ রান করা বিলিংসকে আউট করেন মুস্তাফিজ। ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। সেই ওভারে মঈন আলীকে ফেরান সাজঘরে। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রান। ক্রিস ওকস ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান সিলেটকে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় রংপুর। দলীয় মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, অধিনায়ক লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্স। চার ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হৃদয় ১ রান, লিটন ও মালান সমান ৪ করে এবং ৮ রান করেন কাইল মায়ার্স।
এরপর ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৯ বলে ৩০ রান করে খুশদিলের বিদায়ের পর সাবেক অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াদ আবারও ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তবে সোহানও শেষ পর্যন্ত বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। রিয়াদ ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ বলে ৩৩ রান করেন, আর সোহান ২৪ বলে ১৮ রান করেন। এতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১১১ রান।
অন্যদিকে সিলেটের হয়ে দুর্দান্ত ছিলেন খালেদ আহমেদ। মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন তিনি। সমানতালে কার্যকর ছিলেন ক্রিস ওকস, ১৫ রান খরচায় নেন দুটি উইকেট। নাসুম আহমেদও ১২ রানে ২টি উইকেট নিজের ঝুলিতে পোরেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪১:৪১ ১১ বার পঠিত