সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে : আসিফ মাহমুদ

প্রথম পাতা » চট্টগ্রাম » অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে : আসিফ মাহমুদ
সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬



অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে : আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের আগে ১৭ বছর যেভাবে এ দেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন, জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটা ডেমো আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। ১৭ বছরের অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ মন্তব্য করেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের বোয়ালখালী আসনে প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তির জন্য বোয়ালখালীতে একটি মার্কায় সিল পড়বে, সেটি শাপলা-কলি মার্কা। আপনাদের একটা ভোটের মাধ্যামে এবার বাংলাদেশ দীর্ঘ কালীন মুক্তি-স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ সুশাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের ঐক্যকে নস্যাৎ করে দেব।

আসিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘৫ আগস্ট একদিনে পাঁচ শতাধিক শহীদের জীবনের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ তাড়াতে সফল হয়েছিলাম। ৫ আগস্ট যেমন মুক্তিকামী মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে তেমন আরেকটি দিন। এই দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন আমাদের আর রক্ত দিতে হবে না, আমাদের শুধু সিল দিতে হবে এবং একটি সিলের মাধ্যমেই আমরা সহস্র শহীদের রক্তের মাধ্যমে যা অর্জন করেছিলাম তা রক্ষা করতে পারব। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর, ঠিক ৫ আগস্টের আগে ১৭ বছর যেভাবে এদেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন, জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটি ডেমো আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। আমরা দেখেছি কিভাবে গ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি বাজার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আমরা যদি এই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের আর না দেখতে চাই তাহলে আমাদেরকে এবার রাজপথে নয়, এবার ব্যালটে বিপ্লব সাধন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যালট বিপ্লবের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শরিক ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এখন সময় ভোটারদের একত্রিত হওয়ার এবং জোটকে সাফল্যমণ্ডিত করার। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে ৩০০ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আপনারা তাদের এ জাতির মুক্তির প্রার্থী হিসেবে দেখবেন। কার কী মার্কা সেটা দেখার সময় নেই। আমরা শুধু দেখব কোন প্রার্থী, কোন জোট মুক্তি এনে দিতে পারবে। আমরা সবাই তাদেরকে ভোট দেব। আমাদের ভোটের মাধ্যমে এ প্রজন্ম এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বাধীনতা নিহিত থাকবে।’

কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসদস্য সচিব মনিরা শারমিনের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন শাগুপ্তা বুশরা মিসমা, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল হক, ফরহাদ সোহেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণের জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল হক, চট্টগ্রাম-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ ও বান্দরবান আসনের প্রার্থী সুজাউদ্দিন প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৯:০৪   ৬ বার পঠিত