![]()
কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কৃষকরাই জাতির মেরুদণ্ড, আমরা এ কথা মুখে বললেও কার্যক্ষেত্রে কোনো প্রয়োগ নেই। কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না। কৃষকদের উন্নয়ন না হলে কৃষির উন্নয়ন হবে না।
উপদেষ্টা আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কৃষি উপদেষ্টা বলেন, দাম না পেয়ে কৃষকরা তাদের ফসল ফেলে দেয়। আমরা কয়েকদিন হাহুতাশ করি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের প্রণোদনা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়। এ ধরনের অবস্থা হলে কৃষকরা বাঁচবে না। আর কৃষকদের উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি হবে না। তাই কৃষির উন্নয়ন করতে হলে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, শিল্পকারখানার মালিকরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত না দিয়ে দুই শতাংশ ইন্টারেস্ট দিয়ে মাফ পেয়ে যায়। তারা নানা ধরনের প্রণোদনা পায়। কৃষকরা ঋণ নিতে গেলে পায় না। তাদের প্রণোদনা দিতে গেলে নানা ধরনের বাধা আসে। এটা ভাবা হয় যে, কৃষকরা উৎপাদন না করলে বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে। কিন্তু টাকা থাকলেই সবসময় পণ্য পাওয়া যায় না। তাই দেশেই উৎপাদন করতে হবে বলে উপদেষ্টা মন্তব্য করেন।
আউটলুক সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহুর্ত, আমরা আমাদের দেশের কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করছি। আগামী ২৫ বছরে বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরো বলেন, এ পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন শুধু কৃষি খাতের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কৃষি সচিব ড. মুহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ঢাকাস্থ প্রতিনিধি ড. জিকুইন শি, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তর: দৃষ্টিপথ ২০৫০’ প্রণয়নের প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কৃষি দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামীণ জীবিকাকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত পাঁচ দশকে দেশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে-দীর্ঘদিনের খাদ্য ঘাটতির অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রধান খাদ্যশস্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় আয় সৃষ্টি ও জীবিকাগত স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যদিও বাংলাদেশ বর্তমানে কাঠামোগত অর্থনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং জিডিপি ও কর্মসংস্থানে কৃষির অংশ ধীরে ধীরে কমছে, তবুও জাতীয় স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য এই খাত এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদ সংকট, জনমিতিক চাপ, খাদ্য চাহিদার পরিবর্তন এবং বাজারের অস্থিরতা কৃষিখাতে নতুন ও ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব জটিল বাস্তবতা দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও ভবিষ্যতমুখী কৃষি উন্নয়ন কৌশলের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৫:৩৬ ৮ বার পঠিত